'কিছু একটা আপলোড করলেই কি কেউ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে পারে?'

'ইউটিউবে প্রথম একহাজার সাবস্ক্রাইবার হতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে চার বছর। এই সময়টা দাঁতে-দাঁত কামড়ে ভিডিও আপলোড করেছি। নানারকম ভুল থেকে শিখেছি। ইন্টারনেটের বিচিত্র মারপ্যাঁচ ও ভেতরকার জটিলতার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এখন অনেক সাবস্ক্রাইবার যুক্ত হয়েছেন। তবে নিজেকে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বলব কি না—এ নিয়ে প্রায়ই ভাবি'। ইতিহাস, বিভিন্ন বিষয়ের বিশ্লেষণ, আর ডকুমেন্টারি ধাচের কন্টেন্ট তৈরি করে ফেসবুক ও ইউটিউবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নাসির তামজিদ ওরফে 'নাসির তামজীদ অফিসিয়াল' এমনটাই বলছিলেন।

কবিতা লিখলেই 'সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি।' জীবনানন্দ দাশের এই বিখ্যাত উক্তির মতো করে এখন কারা সত্যিকারের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর দাবি করা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেকে এতে অর্থ উপার্জনও করছেন। তবে মানসম্মত কন্টেন্ট কতোটা তৈরি হচ্ছে, দর্শকদের কতোটা উপকারে আসছে তা, এ বিষয়গুলো নিয়েও ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করেন নাসির তামজিদ। তাই নিজে অনেক ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করলেও এখনো নিজেকে 'কন্টেন্ট ক্রিয়েটর' বলে পরিচয় দেন না।

তবে নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে আটকে থাকতে নারাজ নাসির। ভিডিও নির্মাণের জন্য বহুমাত্রিক বিষয়কে বেছে নিয়েছেন। বই পড়তে ভালোবাসেন। সেখান থেকেই নতুন চিন্তা দানা বাঁধে। শিক্ষকতার প্রয়োজনে জ্ঞানের বিচিত্র শাখায় মন দিয়ে রাখেন বলেও জানান নাসির। নানা ঘাটের জল খেতে হয়। এভাবেই চলতে চলতে ৩১৩টা ভিডিও হয়ে গেছে তার।

বিষয় নির্বাচন থেকে শুরু করে, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, এডিটিং, আপলোড-সহ সব কাজ নিজেই করেন তামজিদ। তামজিদ বলেন, 'আমি যে-বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি, সেগুলো আদতে আমাদের সমাজেরই নানা প্রশ্ন। আমাদেরই মাথায় সেগুলো ঘুরতে থাকে। ফলে মানুষ দেখে উপকৃত হয়, কেউ হয়তো আনন্দিত হয়। তারা যেমন আমার ভিডিও থেকে শেখে, আমিও অনেক কিছু তাদের কমেন্ট থেকে শিখি। আদৌও তাঁরা আমার কনটেন্ট ভিন্নভাবে দেখেন কি না, বা আদৌও কিভাবে দেখেন সেটাও তো প্রশ্ন !

শেখার প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজের জানা বিষয়গুলো অন্যকে জানানোর চেষ্টা তার। ভিউয়ের বিষয়ে মনোযোগী নন তিনি। সোশাল মিডিয়া মূলত বিনোদনের জায়গা হলেও নাসির মনে করেন, 'সিরিয়াস আলাপের পরিসরও এতে আছে। আর বেশিরভাগ মানুষই জ্ঞান-বিজ্ঞানের জটিল আলোচনাকে বিনোদন হিসাবে দেখবেন না—সেটাই স্বাভাবিক। তাই দিনশেষে 'ভিউ' তুলোনামূলক কমই হয়, কিন্তু যেটা হয় সেটাই-বা খারাপ কী। একজন হলেও যদি নতুন কিছু শিখতে পারেন সেটাই আমার প্রাপ্তি!'

নাসির শৈশবের দিনগুলো কাটিয়েছেন পাবনায়। সেখানেই জেলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পার করে পাবনা ক্যাডেট কলেজে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত। পড়াশুনার পাশাপাশি টেন মিনিট স্কুল, সাইফুরস, জয়কলি-সহ বিভিন্ন অনলাইন এডটেক প্লাটফর্মে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে নয়, নিছক শখ বলে মনে করছেন নাসির। তবে এই কাজটি তিনি ধরে রাখতে চান। পড়াশোনা শেষে যে পেশাতেই যান না কেন, সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর।