‘আম ক্যালেন্ডার’ ঘোষিত হলেও রাজশাহীর বাজারে ওঠেনি আম

রাজশাহীতে বাগানের গাছ থেকে আম পাড়া ও বিক্রির সময়সূচি (ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার) ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত বুধবার থেকে গুটি জাতের আম পাড়ার কথা। তবে জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বানেশ্বর হাটে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কোনো আম পাওয়া যায়নি। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ওপর বসা বানেশ্বর হাটে গতকাল বৃহস্পতিবারও আম ওঠেনি। তবে কোথাও কোথাও বাগান থেকে যৎসামান্য আম নামানো হয়েছে। সেগুলো বাগান থেকেই প্রতিমণ ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে আম সংগ্রহ, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাত পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত সভায় কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি, ব্যবসায়ী ও আম পরিবহনে নিয়োজিত সবার সঙ্গে মতবিনিময় শেষে রাজশাহী জেলায় আম ক্যালেন্ডার (আমপাড়ার সময়সূচি নির্ধারণ) ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, ১৫ মে থেকে সবধরনের গুটিজাতের আম নামাতে পারবেন চাষিরা। গতবছর (২০২৩) আমপাড়া শুরুর সময় ছিল ৪ মে। তার আগের বছর (২০২২) ছিল ১৩ মে। আবহাওয়ার কারণে এবার সময় পিছিয়েছে। তবে আমচাষিরা বলছেন, এবার আম বাজারে আসতে আরো প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

ঘোষিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এবার গোপালভোগ বা রাণীপছন্দ আম ২৫ মে, লক্ষ্মণভোগ (লখনা) ও হিমসাগর (ক্ষীরশাপাতি) ৩০ মে থেকে নামানো যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম; ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি-৪ আম, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতী ও ২০ আগস্ট থেকে ইলামতী আম পাড়া যাবে। এছাড়া কাটিমন ও বারি-১১ জাতের আম সারা বছর পাড়া যাবে।

রাজশাহী মহানগরীর জিন্নাহনগর এলাকায় রাজ চাঁপাই অ্যাগ্রো ফুড প্রডিউসার সভাপতি আনোয়ারুল হকের সাত বিঘার আমবাগান রয়েছে। তিনি গত বুধবার বাগান থেকে যৎসামান্য আম পেড়েছেন। যা বাগানেই বিক্রি করেছেন। প্রতিকেজি আম তিনি ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আনোয়ারুল জানান, তার বাগানের আম পরিপক্ব হয়েছে। দুই-এক দিন ঘরে রাখলেই আম পেকে যাবে। ধীরে ধীরে আরো আম পাড়বেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আমচাষি নজরুল ইসলাম জানান, তার এলাকার বাগানের আম ভাঙতে আরো এক-দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে তিনি নিজে আচার তৈরির জন্য বাগান থেকে আম পাড়ছেন। এসব নারায়ণগঞ্জে পাঠাচ্ছেন। একই উপজেলার খুদি ছয়ঘাঁটি গ্রামের আমচাষি আব্দুল ওয়াহেদ সেনরি জাতের গুটি আম পেড়েছেন বুধবার।

তবে বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজশাহীর বানেশ্বর হাটে গিয়ে আম পাওয়া যায়নি। কেউ আম বিক্রি করতে আসেননি। বাজারের ইজারাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতবছর এই দিনে আম ওঠে গেছে। কিন্তু এবার আম নেই। এ বছর গাছে আমও কম। তাই এবার আম নিয়ে মাতামাতিও কম।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এবার আবহাওয়ার কারণে আমের মুকুল আসতে দেরি হয়েছে। এবার আম গাছে মুকুলও এসেছে কম। এছাড়া মার্চে বৃষ্টির কারণে মুকুল নষ্ট হয়েছে। এরপর আবার দীর্ঘ খরা লেগেছে। খরায় আমের গুটি ঝড়ে পড়েছে। তবে এবার শিলাবৃষ্টি ও ঝড় না হওয়ায় যতটুকু আম ছিল, তাই রয়েছে। এবার রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। গতবছর ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এবার রাজশাহীতে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১৫ টন আম উৎপাদন হবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোছা. সাবিনা বেগম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভার সময় তারা কিছু পরিপক্ব গুটি আম নিয়ে গিয়েছিলেন। বাঘা-চারঘাটের অনেক গাছে আম পেকে পড়ার খবর ছিল। বুধবার অনেক জায়গায় আমপাড়া শুরু হয়েছে। তবে কী পরিমাণ আম পাড়া হয়েছে এবং কী দামে বিক্রি হয়েছে, সেই তথ্য এখনো আসেনি। তারা এসব তথ্য সংগ্রহ করবেন।