আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা স্বীকার করা হয় সমাজব্যবস্থার বিকাশের কারণেই। সংবাদপত্রকে যদি বলা যায় সমাজের দর্পণ, তবে যে চিত্র, যে সংবাদ সেখানে বিধৃত হবে, তার মাল-মসলার জোগান পাওয়া যাবে সমসাময়িক সমাজ ও সমাজভূমি থকে। রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় চরিত্র, যা সেই রাষ্ট্রের সমাজ, অর্থনীতি ও জীবনব্যবস্থার প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে অনিবার্যরূপে, তার অপ্রতিরোধ্য প্রভাব সংবাদপত্রের ওপরও বর্তায়। রাষ্ট্রীয় কাঠামোভাগ উদার গণতান্ত্রিক উপাদানে সমৃদ্ধ হলে সংবাদপত্রও সমাজের সহজ ও স্বাভাবিক দর্পণ হয়ে উঠতে পারে। এর অন্যথা হলে সংবাদপত্র আর সংবাদপত্র হিসেবে বিকশিত হতে পারে না। তা হয়ে পড়ে নিছক সংবাদবাহক। সমাজ সেখানে অনুপস্থিত থাকে বহুল পরিমাণে। প্রকাশিত সংবাদ তখন মানুষ আর সমাজের আসল খবর বহন করে না। সমাজবিচ্ছিন্ন সংবাদপত্র তখন আর কোনো বাস্তব সামাজিক উপাদানকে ধারণ করতে পারে না। সংবাদপত্র তখন সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সংবাদপত্রের এই বিপর্যয়ের অবসানকল্পেই বলা হয় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা। বলা হয় সংবাদপত্রের সমাজ নিয়ামকি গুরুত্বের কথা।
সংবাদপত্র যে প্রকৃতপক্ষে ‘ফোর্থ স্টেট’, এই ধারণাও মূলত শতাব্দী পুরোনো। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গ্যালারিতে উপস্থিত সংবাদপত্র প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে মেকলে বলেছিলেন, ‘তাহারা এই রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্টেট”।’ রাষ্ট্রকাঠামোতে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও পরিহার্যতা বুঝতে যে তাত্ক্ষণিক উক্তিটি করেছিলেন মেকলে, সেটাই সংবাদপত্রের একটি বিশেষ পরিচয়কে তুলে ধরেছে এবং সেই পরিচয় এখনো মূর্তমান।
সংবাদপত্রকে গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার বিকল্পহীন প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এ কারণেই গণতন্ত্র বিপন্ন হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিপর্যয় ঘটতে পারে। আবার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব হলে গণতন্ত্রও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পার। সংবাদপত্র মূলত পাঠকের জন্য এবং সেই পাঠক অবশ্যই সমাজমনস্ক পাঠক। সংবাদপত্র যখন নির্বিঘ্নে সমাজের অবিকৃত নানা ঘটনার একটি নিরপেক্ষ সংবাদচিত্র পাঠকদের উপহার দিতে পারে, তখন সেই সংবাদপত্র শুধু পাঠকের খোরাক জোগায় না, একজন সাধারণ পাঠককেও সপ্রতিভ নাগরিক করে তোলো। আজকাল একজন নাগরিককে আর রাজনীতি থেকে আলাদা করে ভাবা হয় না। ভাবার অবকাশও নেই। একজন নাগরিক রাজনৈতিভাবে সচেতন না হলে সে যেমন জাতির কল্যাণ সাধন করতে পারে না, তেমনি নিজের কল্যাণ সাধনও তার পক্ষে সার্থকভাবে করা সম্ভব নয়। নাগিরকদের রাজনৈতিক জ্ঞান অর্জনের মতো উপায় আছে, তার মধ্যে সংবাদপত্রের স্থান সর্বাগ্রে। সংবাদপত্রের জগতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় এবং পৃথিবীর গণমাধ্যমগুলো অতিবৈজ্ঞানিক ত্বরিত সেবা প্রদান করতে সক্ষম হওয়ায় সংবাদপত্রের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সংবাদপত্রের গুরুত্ব যে কতখানি, তা একটি ঘটনার উল্লেখ করলে আরো স্পষ্ট হবে। জেফার একবার কোনো এক সাংবাদিককে লিখেছিলেন। এমনকি, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করার পরও তিনি সংবাদপত্রের প্রতি শ্রদ্ধা হারাননি। তিনি আবারও বললেন, ‘সংবাদপত্র যেখানে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং জনসাধারণ যেখানে পড়তে জানে, সেখানে সবকিছুই নিরাপদ।’
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে কোনো সময়ই সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে ব্রিটিশ আমল থেকে বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য কম-বেশি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটি অভিন্ন হওয়ায় যখনই গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে, তখনই সংবাদপত্রেরও কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে। সংবাদপত্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সেন্সরশিপ, প্রণয়ন করা হয়েছে বিভিন্ন কালাকানুন। এমনকি সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ এবং প্রেস পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশেষত পাকিস্তানি তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর কাছে এটা ছিল একটা অমোঘ অস্ত্র। যখনই গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, তখনই এই সেন্সর ও আইনের নির্মম প্রয়োগনীতি অনুসরণ করা হয়েছে। পূর্ব বাংলায় তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর এই কালো আইনের কোপানলে পড়ে যে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানটি সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা হলো ‘ইত্তেফাক’ এবং যে মহান সংগ্রামী সাংবাদিক সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন, তিনি হলেন মানিক মিয়া।
পূর্ব বাংলায় এর প্রতিবাদ যে হয়নি, তা নয়; তবে সে সময় প্রতিবাদে সবচেয়ে যিনি বেশি সোচ্চার ছিলেন, ক্ষমতাসীনদের জেল-জুলুম উপেক্ষা করে যিনি নিরলস সংগ্রামী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য বলিষ্ঠ লেখনী চালিয়েছেন, তিনি হলেন মানিক মিয়া। তার প্রাণপ্রিয় পত্রিকা, প্রেস কিংবা নিজেকে ক্ষমতাসীনদের রোষানল থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি কলম হাতে ধরেননি, তিনি কলম হাতে ধরেছিলেন যথার্থভাবেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাক্স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধিকার অর্জনের জন্য।
মানিক মিয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে মনে করতেন স্বাধীন জনমত। তার ধারণা ছিল, জনমতের কণ্ঠরোধে গোটা সামাজিক স্বাধীনতার তাত্পর্যই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। মানিক মিয়া স্পষ্টতই মনে করতেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানেই জনসমাজ তথা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা। স্বাধীনতার স্বপ্ন মানিক মিয়া দেখতেন। আর তার সেই স্বাধীনতার স্বপ্নবোধের প্রতীকী ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। তিনি জানতেন, সংবাদপত্রের স্বাধীন ভূমিকা না থাকলে স্বাধীনতাও মূলত অর্থহীন।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্বরূপ উল্লেখ করে মানিক মিয়া লর্ড ফ্রান্সিস উইলিয়ামের একটি উদ্ধৃতি প্রায়ই ব্যবহার করতেন। ফ্রান্সিস উলিয়াম বলেছিলেন :
The Press is a weapon of freedom, a sword in the hands of those fighting old and new tyrannes –the one indespensible weapon in the armoury of freedom.
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে একবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন :‘বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতালাভের ইতিহাস যারা অবগত আছেন, তারা জানেন, সব দেশেই এই স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে অগ্রপথিক সেনানীর ভূমিকা পালন করেছে সংবাদপত্র। “স্বাধীন জনসমাজ” আর “স্বাধীন সংবাদপত্র” কথা দুটি তাই একটি অন্যটির পরিপূরক। আমরা যখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলি, তখন ব্যাপক অর্থে জনসমাজের স্বাধীনতা বা গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রামের কথাই বলি। এই অধিকার ছাড়া কোনো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অর্থহীন।’
মানিক মিয়া শৃঙ্খলিত সংবাদপত্রকে শৃঙ্খলিত জনসমাজের প্রতীক মনে করতেন। শৃঙ্খলিত জনসমাজের আত্মবিকাশ যেমন অসম্ভব, তেমনিভাবে শৃঙ্খলিত সমাজের ব্যক্তিমানসের ফুরনও অকল্পনীয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে তাই প্রতিটি উন্নত ও স্বাধীন দেশেই অলঙ্ঘনীয় বিধান বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর দেশে দেশে সংবাদপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি একবার লিখেছিলেন, ‘আমাদের দেশের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনেও সংবাদপত্রের ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আফ্রো-এশিয়ার দেশে জনসাধারণের পাশাপাশি সংবাদপত্রের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ফলে পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন হয়েছে বটে, কিন্তু বহু দেশেই আজ সেই শৃঙ্খল আবার সংবাদপত্রের হাতেই এঁটে দেওয়া হয়েছে। কারণ, নতুন দেশীয় শাসকেরা জানেন, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধই হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশে জনমতের যথার্থ কণ্ঠরোধ। তাই রাষ্ট্রীয়করণ, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রণাদেশ আরোপ প্রভৃতি নানাভবে নানা নামে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ খর্ব ও খণ্ডিত হচ্ছে। বিংশ শতাব্দীর এই অর্ধশতকের নব্য স্বাধীন ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সবচাইতে বড় ট্র্যাজিডিই সম্ভবত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অপমৃত্যু অথবা মুমূর্ষু অবস্থা। এমন অবস্থাকে বেশি দিন চলতে দেওয়া মানে একটি স্বাধীন জনসমাজের অস্তিত্ব বিলুিপ্ত হওয়ার আশঙ্কাকে ত্বরান্বিত করা। তাই শুধু সংবাদপত্রসেবী হিসেবেও নয়; সংবাদপত্রের পাঠক বিপুলায়তন জনসমাজের প্রতিনিধি হিসিবে এই ভয়াবহ আশঙ্কাকে প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশেরই সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা তথা জনসমাজের স্বাধীনতার জন্যই মানিক মিয়া নাগরিক ঐক্যের কথা বলেছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার ব্যাপারটি তার সময়ে এত ঘটেছিল যে, শৃঙ্খলিত সংবাদপত্রের অবস্থান এবং জনসমাজের দুর্গতি তিনি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পেরেছিলেন। আমাদের জানামতে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও জনগণের স্বাধীনতার কথা মানিক মিয়ার মতো এত জোরালোভাবে কেউ বলে যেতে পারেননি। মানিক মিয়া বলতেন, ‘সংবাদপত্র আদপেই যখন জনসাধারণের খবরাখবর, সুখ-দুঃখ ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কাহিনি প্রকাশের মাধ্যম, তখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র ব্যাখ্যা দাঁড়ায় জনসাধারণকেই নিয়ন্ত্রণ করা।’ মানিক মিয়াও তার একটি ভাষণে একবার বলেছিলেন, ‘সংগ্রামের ঐতিহ্যের অধিকারী বলেই ব্রিটেনের জনসমাজের নাগরিক স্বাধীনতা আজ এতটা সুরক্ষিত, সেখানে স্বাধীন সংবাদপত্রের ভূমিকা এতটা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রাথমিক স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু একটি সাপ্তাহিক প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা নিয়ে। রাশিয়ার কম্যুনিস্ট বিপ্লবে ‘ইসক্রার’ ভূমিকা আজ ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। পাকিস্তান-ভারত উপমহাদেশেও স্বাধীনতা আন্দোলন সংগঠন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী জাতি গঠনমূলক কাজে জাতীয় সংবাদপত্রের ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ভূমিকা আজ কোনো কারণে খণ্ডিত বা খর্বিত হলে জাতীয় চেতনারই একটা অংশ তাতে অন্ধকার হবে।’
মানিক মিয়া বরাবরই সংবাদপত্র ও স্বাধীনতাকে সমার্থক মনে করতেন। তিনি নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন বলে গণতন্ত্রের কথা যেমন বলতেন অকপটে, তেমনিভাবে স্বাধীনতার অস্তিত্ব বোঝাতে বাক্স্বাধীনতাকেই বুঝতেন। এর সপক্ষে জোরালোভাবে তিনি কলম ধরেছেন। সভা-সমিতিতে বক্তব্য রেখেছেন। এ ক্ষেত্রে আপসকামিতা তার ছিল না। যারা রাজনীতির নামে, সাংবাদিকতার নামে আপসবাদী ছিলেন, তাদের তিনি মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন। মানিক মিয়া বিশ্বাস করতেন পেশাগত সততার। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হোক, রাজনীতির ক্ষেত্রে হোক, বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার ক্ষেত্রে হোক, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা না থাকলে তার আবেদন থাকে না, থাকতে পারে না। সময়ে তা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে বাধ্য।
মানিক মিয়ার ‘রাজনৈতিক মঞ্চে’ যে অমিত সাহসের সূর্যতেজ, তার পেছনে সাংবাদিক ও রাজনেতিক নীতিবোধ ছিল প্রবল। মানিক মিয়ার লেখনী এই নীতিবোধ দ্বারা তাড়িত ছিল বলেই তার পদস্খলন ঘটেনি। রাজনৈতিক তোষামোদ তিনি পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা যারা অমাকে রাজনৈতিক মঞ্চের লেখক ‘মোসাফির’ হিসেবে চেনন, তারা জানেন, মোসাফিরের কলমও চেম্বারলেনের ছাতার বাঁট দিয়ে তৈরি নয়। Appeasement Policy কাকে বলে, আমার জানা ছিল না, যা সত্য ও ন্যায় বলে ভেবেছি, তাকে দ্বিধাহীনভাবে প্রকাশ করেছি।’ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মূলত স্বাধীন জনগোষ্ঠী তৈরির পূর্বশর্ত হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি তার রাজনৈতিক মঞ্চের মাধ্যমে সংবাদপত্রসেবী, সংবাদপত্র মালিক ও গণতন্ত্রের সব সহায়ক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বারবার আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা উঠলে তিনিই হতে পারেন একমাত্র প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মানিক মিয়ার অবদান নিঃসন্দেহে ঐতহাসিক ও চির উজ্জ্বল।
লেখক: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক