ইত্তেফাক শুধু পত্রিকা নয়—সংগ্রামের নাম

 

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:২৮

ইত্তেফাক শুধু একটি পত্রিকা নয়। ইত্তেফাক একটি সংগ্রামের নাম। আর এই সংগ্রামের মূল নায়ক হচ্ছেন ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। মানিক মিয়া কোনো ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে পত্রিকা বের করেননি। এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন, ‘পত্রিকা বের করেছিলাম শহীদ (হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী) সাহেবের শুভেচ্ছা নিয়ে তাঁরই রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী দেশ ও দশের সেবা করে যাব—এই নিয়তে।’

ইত্তেফাককে তিনি মনে করতেন তার হাতে এ দেশের বঞ্চিত নিগৃহীত আপামর মানুষেরই আশা ও আকাঙ্ক্ষার একটি পবিত্র আমানত। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ইত্তেফাকের বার্তা বিভাগে সাংবাদিক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে মানিক মিয়া বলেন, ‘আমি চাই আমার মৃত্যুর পর এ আমানতের যেন কোনো খেয়ানত না হয়। আমার এই আদর্শ ও বিশ্বাস অনুসারে ইত্তেফাককে আপনারা জাতীয় সম্পদ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখবেন—এই-ই আমি চাই। আপনাদের উপর সে বিশ্বাস আমার আছে।’ মানিক মিয়া ও ইত্তেফাক, একে অন্যের পরিপূরক। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, বাঙালি জাতির মুক্তির জন্যই ইত্তেফাক প্রকাশ করেছিলেন মানিক মিয়া।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর সাপ্তাহিক ইত্তেফাক প্রকাশিত হয়। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কিছুদিন এই সাপ্তাহিক পত্রিকার সঙ্গে জড়িত থাকার পর ১৯৫১ সালের ১৪ আগস্ট এই সাপ্তাহিকীর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন থেকেই মানিক মিয়া ‘মোসাফির’ ছদ্মনামে ‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’ শিরোনামে সাপ্তাহিক ইত্তেফাকে রাজনীতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কলাম লেখা শুরু করেন।

সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় মানিক মিয়ার লেখা খুব অল্প সময়ে পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর মানিক মিয়ার প্রত্যক্ষ উদ্যোগে ও সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাকের জন্ম হয়। ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের পরাজয় এবং যুক্তফ্রন্টের বিজয়ে বীরোচিত ভূমিকা পালন করে ইত্তেফাক ও মানিক মিয়া।

নীতি-আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন মানিক মিয়া ছিলেন সত্, দেশপ্রেমিক, নির্ভীক, স্পষ্টবাদী, আত্মত্যাগী, নিষ্ঠাবান এবং অসম সাহসী সাংবাদিক। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রের জন্য, ন্যায় ও সত্য কথা বলার জন্য যে কষ্ট, নির্যাতন ও হয়রানি তিনি এবং তার পরিবার ভোগ করেছেন, তা ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পেশ করা ৬-দফা কর্মসূচির পক্ষে এমন জোরালো ভাষায় লেখালেখি শুরু করেন, যার ফলে তাকে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হয়। তিনি ছিলেন শত-সহস্র মানুষের ‘মানিক ভাই’। তার চিন্তা বা ভাবধারায় কোনো অস্পষ্টতা ছিল না। জনগণের ভাষায় লেখা তার ‘মোসাফির’ ছদ্মনামের কলাম অল্প সময়ের মধ্যে প্রভূত জনপ্রিয়তা পায়। অল্প সময়ের মধ্যে সারা বাংলায় ইত্তেফাকের পাঠক তৈরি হয়ে যায়। 

আমাদের জাতীয় জীবনের দুটি প্রধান দিক—রাজনীতি ও সাংবাদিকতা। আর এই দুটিতেই মানিক মিয়া ছিলেন অনন্য ও অতুলনীয়। আবুল মনসুর আহমদ বলেছেন, ‘মানিক মিয়া সাংবাদিকতায় ছিলেন মিশনারি, আর রাজনীতিতে ছিলেন স্ট্যেটসম্যান। তাঁর মানে তিনি পেশাদার সাংবাদিকও ছিলেন না, সক্রিয় পলিটিশিয়ানও ছিলেন না। এই কারণে উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন বিপুল ক্ষমতার অধিকারী।’ তিনি সক্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন না, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মকর্তা বা সদস্য ছিলেন না। রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য থাকে ক্ষমতা।

কারণ সুখী সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে হলে ক্ষমতায় যেতে হবে। তবে মানিক মিয়ারও লক্ষ্য ছিল। এই লক্ষ্যের কথা বঙ্গবন্ধুর জবানিতেই শোনা যাক। ‘আমার মানিক ভাই’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিখেছেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামে মানিক ভাই’র অবদানের কাহিনী অনেকেরই অজানা। পক্ষান্তরে আমার ব্যক্তিগত জীবনে মানিক ভাই’র প্রভাব যে কত গভীর, তা ভাষায় ব্যক্ত করার মত নয়। ১৯৪৩ সালে পরিচয়ের পর থেকে আমরা দু’ভাই একসাথে জনগণের অধিকার অর্জনের সংগ্রাম করেছি। একটা বিষয়ে আমরা উভয়ে একমত ছিলাম। তা হলো বাংলার স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ভিন্ন বাঙালীর মুক্তি নেই। এই লক্ষ্যেই নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দু’জন দু-ফ্রন্টে কাজ করেছি। আমি মাঠে ময়দানে আর মানিক ভাই তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে।”

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব ৬-দফা দেন। মওলানা ভাসানীসহ পূর্ব বাংলার অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই এর পক্ষে ছিল না। এমনকি আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশীদ তর্কবাগীশসহ দলের অনেক সিনিয়র নেতা ৬-দফার বিরুদ্ধে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ৬-দফার বিরুদ্ধে অস্ত্রের ভাষায় হুমকি দেন। মানিক মিয়া শুরুতে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও কয়েক দিন পরে ৬-দফার পক্ষে জোরালো ভাষায় কলম ধরেন। মানিক মিয়ার ইত্তেফাক ছাড়া দেশের অন্য কোনো পত্রিকাও ৬-দফার পক্ষে ছিল না।

শেখ মুজিবসহ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতারের পরও মানিক মিয়ার লেখনী এবং ইত্তেফাকের সংগ্রামী ভূমিকা অব্যাহত থাকে। ৭ জুনের গণবিস্ফোরণের পর ইত্তেফাকের প্রকাশনা অব্যাহত এবং মানিক মিয়াকে মুক্ত রাখতে সাহস পেল না। কথিত লৌহমানব আইয়ুব খান ১৯৬৬ সালের ১৫ জুন মানিক মিয়াকে গ্রেফতার এবং পরদিন ১৬ জুন রাতে সরকার নিউনেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করে। মানিক মিয়ার গ্রেফতার এবং ছাপাখানা বাজেয়াপ্ত করায় ইত্তেফাক গ্রুপের অন্য দুটি প্রকাশনা সপ্তাহিক পূর্বাণী এবং ইংরেজি সাপ্তাহিক ঢাকা টাইমসও বন্ধ হয়ে যায়।

গণমানুষের পক্ষে কথা বলা এবং লেখার জন্য এর আগেও দুবার আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক এই সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৫৮ সালে দেশে প্রথম সামরিক আইন জারির পর ১৯৫৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মানিক মিয়াকে প্রথম গ্রেফতার করা হয়। ঐ সময় সামারি মিলিটারি কোর্টে তার বিচার এবং পরে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৬২ সালে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দ্বিতীয় বার তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তিলাভ করেন। ৬-দফা আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে আপস প্রস্তাব আসে।

নীতির প্রশ্নে অনড় ও আপসহীন মানিক মিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ১৪ বছর জেলে থাকতেও রাজি আছি। আপস করে জেল থেকে বের হব না। আওয়ামী লীগের ৬-দফার প্রতি ইত্তেফাক এবং মানিক মিয়ার ভূমিকা কতটা জোরালো তা মিজানুর রহমান চৌধুরীর লেখায় উঠে এসেছে। আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘রাজনীতির তিন কাল’-এ মিজানুর রহমান চৌধুরী লিখেছেন, ‘ইত্তেফাকের মাধ্যমে ৬-দফার প্রচার অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়লো। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যসমৃদ্ধ জোরালো যুক্তির মাধ্যমে ৬-দফাকে মানিক ভাই জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিলেন এবং তা বাংলার মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হলো। মানিক ভাই ৬-দফাকে এমনভাবে সমর্থন দিতে শুরু করলেন যেন ৬-দফা তারই সৃষ্ট।’ (পৃ. ৮১)। তিনি যেভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সমর্থন দিয়ে গেছেন, এর কোনো তুলনা হয় না। মানিক মিয়ার ঋণ আওয়ামী লীগ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, গোটা জাতি, সারা দেশ মানিক মিয়ার কাছে ঋণী।

১৯৬৭ সালের ২৯ মার্চ ঢাকার পুলিশ হাসপাতাল থেকে অসুস্থ মানিক মিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর ইত্তেফাক পত্রিকা ও প্রেস ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে তাকে নানারকম প্রলোভন দেওয়া হয়। কিন্তু মানিক মিয়া নীতি-আদর্শের প্রশ্নে পর্বতের মতোই অটল থাকেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে পর্যুদস্ত সরকার প্রেস খুলে দিতে বাধ্য হয়। ১৯৬৯-এর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ইত্তেফাক পুনঃপ্রকাশ শুরু হয়। আর ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে। শেখ মুজিবসহ ৩৪ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়েই মানিক মিয়া তার কলাম লেখা শুরু করেন। আইয়ুব-মোনায়েমরা শেখ মুজিব ও মানিক মিয়াকে শেষ করতে চেয়েছিল। মাত্র তিন বছরের মাথায় জালিম শাহির পতন হলো। পরাজিত আইয়ুব-মোনায়েমরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। বিজয়ী মানিক মিয়া পুনরায় বীরের মতো ইত্তেফাক প্রকাশ করেছেন। আর জনগণমন অধিনায়ক শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।

 ‘অবিস্মরণীয় মানিক মিয়া’ গ্রন্থে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদার এবং বেগম মানিক মিয়ার লেখা পড়ে যে কোনো পাঠকের মনে হবে যে, মানিক মিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। ১৯৬৯ সালে করাচী থেকে লেখকের নাম ছাড়া এক রহস্যময় চিঠিতে শেখ মুজিব এবং মানিক মিয়াকে পশ্চিম পাকিস্তান যেতে নিষেধ করে বলা হয়—তারা দুজন যেন পশ্চিম পাকিস্তানে  না যান। যদি যান, তবে তাদেরকে হত্যা করা হবে। মানিক মিয়ার নামেই এই চিঠি আসে। বেগম তফাজ্জল হোসেন লিখেছেন, তিনি পিন্ডি গেলেন এবং কিছুদিন সেখানে থাকবেন, এজন্য তাকে পিণ্ডি যেতে বলেন।

৩০ মে শুক্রবার রাতে তিনি পিণ্ডি গেলেন। ৩১ মে দুবার তারা বের হয়ে কেনাকাটা করেছেন। পরিপূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রাত ১১টায় ঘুমাতে গেলেন। এর কিছুক্ষণ পর সউদ (বা সদরি) নামের একজন ফোন করেন। ফোন পেয়ে মানিক মিয়া চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফোন করে সউদ জানান, ‘মানিক ভাই একটু অসুস্থ। আপনি কি আসতে পারেন? বেশ কিছুক্ষণ হয়রানির পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সদরি ইস্পাহানীর রুমে গিয়ে দেখলেন, তার স্বামী আর জীবিত নেই। একে একে সবাই চলে যাওয়ার পর তিনি একাই সারা রাত মৃত স্বামীর পাশে অবস্থান করেন। এতে কি মনে হয় না, মানিক মিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মতো এমন সব অতিমানবীয় গুণাবলিসম্পন্ন কয়জন মানুষ এই দুনিয়ায় জন্মেছেন, আমি তা জানি না। একজন মানুষের মহত্ গুণাবলি বলার জন্য বাংলা ভাষার সব বিশেষণই তার জন্য প্রযোজ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছেন, তিনি ও মানিক মিয়া দুজন দুই ফ্রন্ট থেকে দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন এবং তার জীবনে তার মানিক ভাইর গভীর প্রভাব রয়েছে।

মানিক মিয়া রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষও ছিল না। আর এজন্যই সত্, সত্যভাষী, সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানিক মিয়া জোরালো ভাষায় অত্যাচার, নির্যাতন, হয়রানি, জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে লিখতে ও কথা বলতে সক্ষম হয়েছেন। শেখ মুজিব ৬-দফা দেওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক দল বা কোনো পত্রপত্রিকা সমর্থন করেনি। মওলানা ভাসানীর মতো বড় নেতা ৬-দফাকে সিআইএর দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ৭ জুনের হরতালের আগে-পরে দেশের কোনো নেতা বা কোনো পত্রিকা সমর্থন করেনি। কিন্তু মানিক মিয়া এবং তার ইত্তেফাক জোরালো ভাষায় সমর্থন করেছে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে ৬-দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে মানিক মিয়াকেও বিরোধী দলীয় রাজনীতির অন্যতম প্রবক্তা মনে করা হতো। এই মহান সাংবাদিকের সাংবাদিকতার বয়স মাত্র ১৮ বছর।

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে মানিক মিয়া ও ইত্তেফাক অবস্মিরণীয় অবদান রেখে গেছেন। আওয়ামী লীগ তথা বাঙালি জাতি মানিক মিয়ার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবে না। কলকাতার সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদার ১৯৭২ সালে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় লিখেছেন, ‘মানিক ভাই আজ আর আমাদের মধ্যে নেই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মুহূর্তেও বেঁচে ছিলেন না। তা সত্ত্বেও আজ সংগতভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, মানিক ভাই না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্ভব হতো কিনা। মানিক ভাইয়ের আবির্ভাব না ঘটলে বাংলাদেশের অবিসংবাদী নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের আবির্ভাবও সম্ভব হতো না। আসলে শত সহস্র বছরে একেকজন মানিক মিয়ার জন্ম হয়। অমর মানিক মিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’

লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, সম্পাদক সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা। 

ইত্তেফাক/এসএএস