বাঘায় দলিল লেখক সমিতির দু’গ্রুপের সংঘাত: একপক্ষের মানববন্ধন 

রাজশাহীর বাঘায় দলিল লেখক সমিতির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষের ১০ দিন পর মানববন্ধন করেছে একপক্ষ। 

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকালে তারা অবিলম্বে এই সমিতি বাতিলের দাবি জানিয়ে উপজেলা সদরে মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে অভিযোগ করেননি তারা। 

প্রতিবাদ সমাবেশে বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলী বলেন, ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন গত ১০ জুন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির পদ পরিবর্তন ও এককভাবে অবৈধ পন্থায় দলিল লেখক সমিতির নামে জমি রেজিস্ট্রি ফি বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে চাই। আমাদের সংসদ সদস্য যখন তখন তার পছন্দের লোকদের সমিতির দায়িত্ব দিয়ে অবৈধভাবে টাকা রোজগার করিয়ে থাকেন। এরপর সেই টাকা তার সমর্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যয় করেন। এর ফলে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হন সরকার। অন্যদিকে লাভবান হয় কিছু অসাধু দলিল লেখকসহ রাজনৈতিক নেতারা। আমরা অবিলম্বে এই অরাজকতার পরিবর্তন চাই। তা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। 

b-1

বাঘার সর্বস্তরের জনগণের বরাত দিয়ে ডাকা এই মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনজীবী লায়েব উদ্দিন লাভলু, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জাসদ নেতা শফিউর রহমান শফি, বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (সদ্য) আব্দুল মোকাদ্দেস, বাঘার পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন চকরাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, অধ্যাপক সানোয়ার হোসেনসহ অনেকে।

এদিকে মানববন্ধনের উদ্ধৃতি টেনে বর্তমান দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শাহিনুর রহমান পিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন সরকার বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে মাত্র ১০৬ ভোটের ব্যবধানে তাদের সমর্থিত প্রার্থী আইনজীবী লায়েব উদ্দিন লাভলু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তারা আমাদের পেছনে লেগেছে। এই মানববন্ধনের আদৌ কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ এটি সারাদেশে চলমান। বরং অন্য উপজেলার চেয়ে আমাদের এখানে জমি-কেনা বেচায় ফি কম নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিপক্ষরা সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে যেসব কথা বলেছে তার কোনো ভিত্তি নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নেই। 

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন রাজশাহীর বাঘায় দলিল লেখক সমিতির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়। ঐ দিন দুপুরে উপজেলা সদরে অবস্থিত সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার একপর্যায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার আমি রাজশাহীতে একটি মিটিংয়ে ছিলাম। একটি পক্ষ সমিতি বাতিলের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে শুনেছি। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।