শতাধিক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দিল বিজিবি

মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ থামছেই না। রাত-দিন চলছে গোলাগুলি। ওপারের বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কাঁপছে এপারের সীমান্তের বাড়িঘর। ওপারে বাস করা সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছে। তারা জড়ো হয়ে নৌকা বোঝাই করে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। 

এমন শতাধিক রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে আবার নিজের দেশে ফিরিয়ে দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। গত বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে নাফ নদী দিয়ে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একাধিক সূত্র। তবে এ প্রসঙ্গে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বা তার কোনো সূত্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফ জেটিঘাট, নাইট্যংপাড়া, দমদমিয়া, শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং ও নাজিরপাড়া বরাবর নাফ নদীর ওপারে সীমান্তে হাজার হাজার রোহিঙ্গা জড়ো হয়েছেন। সুযোগ পেলেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে টেকনাফ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন তারা।

রাখাইন ও সীমান্তের স্থানীয় সূত্রমতে, দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি রাখাইনের মংডু শহরের নিয়ন্ত্রণে নিতে সামরিক বাহিনীর ওপর প্রবল হামলা চালাচ্ছে। ফলে তুমুল যুদ্ধে ঘটছে প্রাণহানি। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, রাখাইনে দুই পক্ষের যুদ্ধে মংডু ও বুচিডংয়ে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা আটকা পড়েছে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাফ নদীতে মাছ আহরণ করা একাধিক জেলে ও জেটিঘাটের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেখা গেছে টেকনাফ জেটিঘাটের শেষের অংশে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ কিছু রোহিঙ্গাকে জড়ো করে রাখেন বিজিবির সদস্যরা। পরে তাদেরকে নৌকাসহ আবার মিয়ানমারের ফেরত পাঠায়।

উখিয়ার আশ্রয়-ক্যাম্পের কয়েক জন রোহিঙ্গা নেতা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘দুই পক্ষের গোলাগুলিতে অনেক রোহিঙ্গা মারা যাচ্ছে। এখন পাশের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ছাড়া তাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। তাই যে কোনো সময় তারা সীমান্তের দিকে ছুটতে পারে। কিন্তু যারা এপারে আসতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে।’

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘মূলত রাখাইনে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের নিশ্চিহ্ন করতেই যুদ্ধের নামে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে নাটক চলছে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধ করব, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে সহযোগিতা করুন।’

সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গা আসা কিংবা এপারে আসা নৌকা ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিজিবির স্থানীয় দায়িত্বশীলদের কারো বক্তব্য না পাওয়ায় বিষয়টি জানতে বিজিবি হেডকোয়ার্টারের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামকে ম্যাসেজ দেওয়া হয়।  তবে তিনি কোনো উত্তর না দেওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অবশ্য টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে আমিও শুনেছি, রোহিঙ্গাবোঝাই কয়েকটি নৌকা নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে অনুপ্রেবেশের চেষ্টা করে। আর বিজিবির সদস্যরা তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠায়।’