চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি

জনবল সংকট, অত্যাধুনিক মেশিনের সুফল মিলছে না

চট্টগ্রামে সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে টেকনিক্যাল জনবলের সংকটে ওষুধের মান যাচাই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ল্যাবে নতুন করে উন্নত প্রযুক্তির মেশিন বসানো হলেও জনবলের সংকটে সুফল মিলছে না। চট্টগ্রাম ল্যাবে যখন কার্যক্রম কম ছিল, তখন প্রায় ১৬ জন দক্ষ জনবল ঢাকার টেস্টিং ল্যাবে ডেপুটেশনে বদলি করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ল্যাবে অত্যাধুনিক মেশিন স্থাপনের পরও এসব জনবল ঢাকার ল্যাবে কর্মরত রয়েছে। চট্টগ্রাম ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেপুটেশনে থাকা জনবলকে আগের কর্মস্থল চট্টগ্রামে পদায়ন করা হচ্ছে না। এতে ওষুধের মান যাচাই কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ল্যাবের আধুনিকায়নের উপকরণ স্থাপনের মাধ্যমে সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে চট্টগ্রামের ল্যাবের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি নেওয়ার লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তির মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯ ক্যাটাগরির ৭৮টি মেশিন কেনা হয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে এসব মেশিন আমদানির পর চট্টগ্রামের ল্যাবে নিয়ে আসা হয়। মেশিনের পুরো সেটআপের মধ্যে দুটি হাইপারফরমেন্টস লিকুইড কোমেট্টোগ্রাফ (এইচপিএলসি) ও তিনটি ইউভি মেশিনের মাধ্যমে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মান যাচাই করা হয়। এসব মেশিন ল্যাবে স্থাপন করায় অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মান যাচাইয়ের সমস্যা কেটে গেছে। তবে ছোটখাটো আরো কয়েকটি মেশিন এখনো স্থাপন করা হয়নি। খুব শিগগিরই এসব মেশিন স্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আগে চট্টগ্রামের এই ল্যাবে মেশিনের স্বল্পতায় অ্যালোপ্যাথিকের ১০ শতাংশ ওষুধের মান যাচাই করা যেত। এখন চট্টগ্রাম ল্যাবে অ্যালোপ্যাথিকের শতভাগ ওষুধের মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবলের অর্গানোগ্রাম অনুসারে জনবলের ৪৬টি পদ রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে ১৬ জন কর্মরত রয়েছেন। আর ১৬ জনকে ঢাকার ল্যাবে ডেপুটেশনে বদলি করা হয়। তাদের বেতন-ভাতা চট্টগ্রাম অফিসের মাধ্যমে হচ্ছে। বাংলাদেশের ঢাকায় ও চট্টগ্রামে দুটি সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি রয়েছে। চট্টগ্রামের পরে ঢাকায় সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু চট্টগ্রামের ল্যাবটিতে উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন না করায় পিছিয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ল্যাবে মান যাচাইয়ের জন্য বর্তমানে ৪৪৩টি ওষুধের নমুনা মজুত রয়েছে। তার মধ্যে ২৪৬টি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের নমুনা। নতুন স্থাপিত হাইপারফরমেন্টস লিকুইড কোমেট্টোগ্রাফ (এইচপিএলসি) মেশিনে ওষুধের মান পরীক্ষা করার জন্য যে ধরনের টেকনিক্যাল জনবলের প্রয়োজন, তার ঘাটতি রয়েছে। তাই জনবল পদায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত জুন মাসে  ১৪৫টি, মে মাসে ৩৭২টি ওষুধের মান পরীক্ষা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ল্যাবের পরিচালক শেখ আহসান উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, এইচপিএলসি মেশিন স্থাপনের ফলে সব ধরনের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মান যাচাই করা যাচ্ছে। তবে জনবলের সংকটে মান যাচাই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ডেপুটেশনে থাকা জনবল ফিরিয়ে আনা হলে এই সংকট কেটে যাবে।’