সিরাজগঞ্জের তাড়াশে রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউজ্জামানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গনিত ও সাধারণ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. আইয়ুব আলীকে চাকরিচ্যূত করার অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আরবিট্রিশন কমিটির সভার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের রায় উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক। পরে তিনি জাল ইস্তফাপত্রের প্রতিকার ও যোগসাজশী চাকরিচ্যুত করায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ আদালতে মামলা করেন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের ১ তারিখে মো. আইয়ুব আলী গনিত ও সাধারণ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। যথারীতি তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বেতন ভাতা প্রাপ্ত হন। ইনডেক্স নং ১১১৪৬৭৭।
শিক্ষক মো. আয়ুব আলী বলেন, প্রধান শিক্ষক মো. রবিউজ্জামানের নিয়োগ বানিজ্য, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে আত্মীয়করণ ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করেন সহকারী শিক্ষকরা। এ নিয়ে আমরা শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এজন্য স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আমাকে চাকরিচ্যুত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে, আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে চাকরির ইস্তফাপত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরে জমা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. রবিউজ্জামান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, গনিত ও সাধারণ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. আইয়ুব আলীর অভিযোগ সত্য। অযৌক্তিকভাবে তাকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করছেন প্রধান শিক্ষক মো. রবিউজ্জামান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন, চাকরিচ্যুত করা, না করা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ব্যাপার।
রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউজ্জামান বলেন, সহকারী শিক্ষক মো. আইয়ুব আলীর চাকরির বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই সমাধান হবে।
রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মানষ চন্দ্র রায় (সনাতন দাশ) বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে বিভিন্ন কাগজপত্র আসে। প্রধান শিক্ষক কমিটির সভায় উপস্থাপন করলে অনুমোদন দিয়ে থাকি। এখানে যা ঘটুক দায় প্রধান শিক্ষক মো. রবিউজ্জামানের।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রধান শিক্ষক মো. রবিউজ্জামান রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আরবিট্রিশন কমিটির সভার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন জানা ছিলনা। সহকারী শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী প্রতিকার চেয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুক। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।