কোটা আন্দোলন ঘিরে দেশব্যাপী আন্দোলনকারীদের গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার ও নিপীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ কবি-লেখক সমাজের ব্যানারে বৃষ্টিতে ভিজে পালন করা হয়েছে মানববন্ধন কর্মসূচি। শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
এ সময় কবি-লেখক-শিল্পীরা বলেন, ‘আমরা কবিতা পড়তে আসিনি। গল্প শুনাতে আসিনি। শিক্ষার্থীদের গণহত্যাকারী খুনীদের কাছে আমরা বিচার চাইতে আসিনি। আমরা ঘৃণা আর ধিক্কার জানাই। সরকারের উচিত দ্রুত ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা।’
শহীদুল্লাহ ফরায়েজী বলেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে তাদেরকে বিভিন্ন বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ১৯৭১ সাল আর আজকের কি পার্থক্য? মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে সাম্যের জন্য, মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্য, প্রতিটা মানুষের ন্যায় বিচার রক্ষার জন্য। বাংলাদেশ থেকে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায় বিচার উচ্ছেদ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা কেন বলেন?
কবি টোকন ঠাকুর বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে যে ঘটনা তা নিয়ে আমরা স্তব্ধ। আমরা কোনো হত্যার বিচার চাই না, কার কাছে চাইব। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করি।
কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, আমরা এই খুনীর কাছে বিচার চাই না। আমরা শিক্ষার্থী হত্যার জন্য সরকারের পদত্যাগ চাই।
কবি আশরাফ জুয়েল বলেন, আমরা নির্বাক। আমাদের সন্তানদের গুলি করে মারা হচ্ছে। তাদের জন্য আমরা ঘুমতে পারছি না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই। ছাত্রদের রক্ত ঝরিয়ে কোনো শাসক কখনো ক্ষমতায় থাকতে পারিনি।
কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন বলেন, যে চেতনায় স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলাম, যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিক অধিকার নিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম, তা ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে, গেছে। এখন আমরা এমন এক স্বাধীন, গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি যেখানে কথা বলতে ভয় পাই, লিখতে ভয় পাই, আমাদের দাবি জানাতে ভয় পাই। এই গণতন্ত্রে শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে না। তাদের সমালোচনা করা যাবে না। এ কেমন স্বাধীনতা?
কবি নকিব মুকশি বলেন, এই ফ্যাসিস্ট তো ফ্যাসিস্টদের গডফাদার। নানা ট্যাগের ভয়ে আমাদের চুপ থাকার কারণেই এমন দানব সরকারের পয়দা হয়েছে। এই শত শত ছাত্র-জনতার খুনি সরকার বাংলাদেশের সরকার হতে পারে না। পাশের দেশের গোয়েন্দার প্রেসক্রিপশনে চলা সরকার, বিদেশি সরকার। তাই বিচার পেতে হলে আগে এ রাষ্ট্রের সংস্কার করতে হবে।
কর্মসূচির অন্যতম সমন্বয়ক লেখক ও সাংবাদিক আবিদ আজম বলেন, জাতির পতাকা আজ খামছে ধরেছে সেই পুরনো শুকুন। তাই শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছি আমরা।
এ ছাড়া মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কবি কাজল শাহনেওয়াজ, অনিন্দ্য নজরুল, এহসান মাহমুদ, পলিয়ার ওয়াহিদ, কিঙ্কর আহসান, ঢাবি শিক্ষক আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন, বকুল আশরাফ, গবেষক সরোজ মেহেদী, সুদীপ্ত সালাম, জব্বার আল নাঈম, রকিবুল ইসলাম, সালমান হাবিব, রাফসান গালিব, তানিয়া সুলতানা, তানজিম তানিম, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, রকিব লিখন, তানজিম তানিম, ইমরান মাহফুজ, নিমুগ্ন দুপুর, পথিক রানা,ফারুক খান, নাহিদ যাযাবর, হালিমা মুক্তা, মানজুলুল হক, আবদুল্লাহ আল মামুন, রাব্বি আহমেদ, রাসেল আহমেদ, জুবায়ের ইবনে কামাল ও রিয়াজ ইনসানসহ আরও অনেকে।