‘একের পর এক মামলা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা, অদ্ভুত রকমের সংস্কৃতি’

সুবর্ণা মুস্তাফা, অপু বিশ্বাস, নুসরাত ফারিয়া, নিপুণসহ ১৭ অভিনয়শিল্পী হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। সোমবার (২৮ এপ্রিল) আদালত তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। একই দিনে অভিনয়শিল্পী সিদ্দিকের ওপর হামলা করে লাঞ্ছিত করার পর ঢাকার রমনা থানায় সোপর্দের ঘটনা ঘটেছে। 

অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম ঘটনাগুলো প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এভাবে মামলা দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার। সরকারিভাবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত হবে এ ধরনের মামলাকে প্রতিরোধ করা। ঢালাওভাবে হত্যা মামলা হচ্ছে! দেখে মনে হচ্ছে, সবাইকে মামলার মধ্যে ফেলতে হবে। ৩০০-৪০০ জন মামলার আসামি, এটা অবাস্তব একটা অবস্থা। একজন সুবর্ণা মুস্তাফার মতো শিল্পী রাস্তায় গিয়ে মানুষকে গুলি করবে?’

তিনি বলেন, ‘মামলার নথিতে শিল্পীদের অনেকের নাম দেখলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের মেয়াদে অনেক শিল্পীকে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। কেউ কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন। শিল্পীদের রাজনৈতিক একটা পরিচয় থাকতেই পারে। বেশির ভাগকেই দেখেছি গণ-অভ্যুত্থানের সময় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে, মানুষের পক্ষে কথা বলেছে। শিল্পীরা তো স্বাভাবিকভাবে মানুষের পক্ষে কাজ করা মানুষ। শিল্পীদের এভাবে ঢালাওভাবে মামলায় ফেলে, একের পর এক মামলা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাদের জীবনকে নিরাপত্তাহীনতার চাদরে মুড়ে দেওয়া, এটা অদ্ভুত রকমের সংস্কৃতি।’

আজাদ আবুল কালাম। ছবি: সংগৃহীত

অভিনেতা আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ইরেশ যাকেরকেও মামলার আসামি করতে দেখলাম! অথচ ইরেশ যাকের আমাদের সঙ্গে সেই জুলাই মাস থেকে রাস্তায়। মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে, যিনি শিল্পীদের নামে মামলা করেছেন, তার কী শাস্তি হবে, সেটার বিধান থাকতে হবে। ঢালাওভাবে মামলায় শিল্পীদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে।' 

আজাদ আবুল কালাম মনে করেন শিল্পীদের যেভাবে হত্যা মামলার আসামি করা হচ্ছে এবং যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তাতে হঠাৎ করে মনে হবে, শিল্পীরা সত্যিই মানুষ মেরে ফেলেছে! কিছু ক্ষেত্রে অর্থের জোগানদাতাও বলা হচ্ছে শিল্পীদের। এটা এক প্রকার অবাস্তব এবং অবান্তর কথা! এটার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত। রাষ্ট্রের জানিয়ে দেওয়া উচিত, এসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে উল্টো মামলাকারী তারা কঠিন শাস্তি পাবে। 

অভিনেতা সিদ্দিকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনা প্রসঙ্গে আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘সিদ্দিকের সঙ্গে যা ঘটেছে, এটা তো মব। কেন জানি মনে হচ্ছে, মব ভায়োলেন্সকে নীরবে বলা হচ্ছে, করে যাও। একজনের রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা থাকতে পারে। অভিনেতা হিসেবে সিদ্দিক সবার কাছে পরিচিত। তাকে এভাবে রাস্তায় ধরে মেরে দেবে কিছু লোক! দলবদ্ধভাবে এসে শারীরিকভাবে আঘাত করছে, আক্রমণ করছে, গায়ে থেকে জামাকাপড় খুলে ফেলছে, এরপর থানায় নিয়ে সোপর্দ করছে। থানায় নিয়ে সোপর্দ করতেই যদি হয়, তাহলে প্রথম থেকে তারা আইন হাতে তুলে নিল কেন! এসব কর্মকাণ্ড সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’