মিয়ানমারের সঙ্গে জেতার পর ঋতুপর্ণাকে আলাদা রেখে ছিলেন। কথা বলতে দেননি। কারণ হিসেবে জানানো হয় কোচ এটা পছন্দ করে না। বলা চলে সবার থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল তাকে। যেভাবে মেসিকে রাখা হয়েছিল কাতার বিশ্বকাপে সময়। তবে ঋতুপর্ণাকেও তো বাফুফের কিরণ মেসি নাম দিয়েছেন। কারণ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে ঋতুপর্ণার গোল দুটি মেসিকে মনে করিয়ে দিয়েছে।
ইতিমধ্যে ঋতুপর্ণার ইনসাইড আউট সাইড ডজ দিয়ে গোল করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই অনুসারে তাকে মেসির মতো ট্রিটমেন্ট করাটাও স্বাভাবিক। তবে খুব বেশিক্ষণ যে এই তারকাকে আড়ালে রাখা সম্ভব না সেটাও হয়তো অনুধাবন করতে পেরেছিল ফেডারেশন। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের এই তরুণ তুর্কিকে সামনে এনেছে বাফুফে। সেখানেই ভক্তদের আগ্রহের সকল প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন লাল-সবুজের 'মেসি' খ্যাতি পাওয়া ঋতুপর্ণা চাকমা।
বাছাইপর্বে নিজেদের দুই ম্যাচে তিন গোল করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার মধ্যে শক্তিশালী মিয়ানমারের বিপক্ষের ম্যাচেই করেছেন দুটি চোখ ধাঁধানো গোল। তার গোলেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে ঋতুপর্ণার বেশ প্রশংসা করেন দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার। সেই সময় কোচ জানান ঋতুপর্ণা যেই মানের খেলোয়াড় তার সামনে বিশাল এক জগত খোলা রয়েছে পাশাপাশি এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে বড় মাপের লিগে খেলতে দেখারও আশা ব্যক্ত করেন বাটলার।
যখন এ সব কথা বলেছেন কোচ সেই সময় পাশেই বসা ছিলেন ঋতুপর্ণা। কোচের মুখে নিজের প্রশংসা শুনছিলেন মনোযোগ দিয়েই। তবে সেই সময় কিছু বলেননি। গতকাল বাফুফের দেওয়া ভিডিও বার্তায় এ নিয়ে বলেন, 'আমরা একটা ভালো কোচ পেয়েছি। উনি সব সময় আমাদের ভালোই চান। উনি আমাকে নিয়ে যেই প্রশংসাটা করেছেন জানিনা সেটার জন্য আমি কতটুকু প্রাপ্য।'
প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ। আগামী বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় হবে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বে লড়াই। এই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ এশিয়া থেকে সবার আগে পা দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যেটা ছিল ঋতুপর্ণার কল্পনারও বাহিরে। এ নিয়ে বলেন 'অনুভূতি আসলে বলে প্রকাশ করতে পারবো না। আমরা যখন জানতে পারি যে আমরা কোয়ালিফাই করেছি, এটা আসলে কল্পনার বাইরে ছিল। আমরা বহু বছর পর এত কষ্ট করে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছি। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। যখন আমি দ্বিতীয় গোলটা করি। এটা আমি আসলে-এই অনুভূতি আমি আসলে বলে প্রকাশ করতে পারবো না। আমি খুব আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম।'
মিয়ানমারে বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে নিজেদের থেকে র্যাংকিংয়ের ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা বাহরাইনকে ৭-০ গোলে গুঁড়িয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ার মিশন। এরপর স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে উপহার দেয় চমক। তবে তারপর দল কোনো উদযাপন করেনি। পরবর্তী ম্যাচের জন্য ধরে রেখেছে মনোযোগ। নিয়মরক্ষার ম্যাচে আজ তুর্কমেনিস্তান মুখোমুখি হবে তারা। আর এই ম্যাচে ভালো ফল নিয়েই মিয়ানমার সফর শেষ করে উদযাপন করবেন মেয়েরা। বলেন, 'আমরা আসলে কোনো উদযাপনই করিনি। আরেকটা ম্যাচ বাকি আছে। তারপর উদযাপন করার পরিকল্পনা আছে।'