থমথমে চবি ক্যাম্পাস

সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হবে কিনা সিদ্ধান্ত অংশীজন সভায়

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও জোবরা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকায় টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে। এর ফলে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়াও হাটহাজারীর জোবরা গ্রামে তল্লাশিও চালিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সোমবার দুপুর নাগাদ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ মীমাংসা এবং সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘অংশীজন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয়, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন।

মূলত সোমবার দুপুরে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হবে কি-না তা এই সভা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে চবি প্রশাসন।

চবি সহকারী প্রক্টর সাঈদ বিন কামাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ১৪৪ ধারা চলমান আছে। আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়েছে। সোমবার সকল অংশীজনের সঙ্গে একটা মিটিং আছে সেখানে সিদ্ধান্ত হবে, মামলা হবে কি-না বা কীভাবে হবে এসব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হবে। এখন আমাদের চারজন শিক্ষার্থী ছাড়া সকলেই শঙ্কামুক্ত।’

এর আগে রোববার বেলা ১১টা থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ শুরু। টানা ৫ ঘণ্টা সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব আসার পর সংঘর্ষ বন্ধ হয়। ততক্ষণে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ আহত ছাড়িয়ে যায় ৪ শতাধিক।

টানা ৬ ঘণ্টা ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৫০-এর অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। এতে ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের পর রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসক ও গ্রামের কয়েকজন প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসে প্রশাসন। এ সংঘর্ষের কারণ ও সমাধান নিয়ে মতামত দেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য দাবি জানায় প্রশাসন। এছাড়া আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে চবির ২ নম্বর গেট এলাকায় ভবনের গেট খোলা নিয়ে দারোয়ানের সঙ্গে তর্কের পর এক ছাত্রীকে হেনেস্তার অভিযোগ উঠে। চবি শিক্ষার্থীরা দাবি করে আসছেন, এ ঘটনা ওই দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালায় স্থানীয়রা। এতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।