নাটোরের হালতিবিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মখলেছুর রহমান পলাশের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে হালতি গ্রামের পশ্চিমে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। পলাশ রাজশাহী সদর উপজেলার মেহেরচন্ডি পূর্বপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ও রাজশাহী বেসরকারি নর্থবেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির বিজনেস অ্যান্ড স্ট্যাটিজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, সকালে স্থানীয় হালতি বিলের গ্রামের লোকজন নৌকা নিয়ে মাধনগর গ্রামে যাওয়ার পথে কিছু দূর পশ্চিম পাশে ওই শিক্ষকের লাশটি ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি পলাশের পরিবারের লোকজন। অভিযোগ পেলে ময়না-তদন্তের পর লাশটি তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি না থাকলে, ময়না-তদন্ত ছাড়াই লাশটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরও পড়ুন : পুতিনের সমালোচককে ‘অজ্ঞাত রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ’
গত শনিবার ওই ইউনির্ভাসিটির চার শিক্ষক, এক ছাত্র ও নেসকোর কর্মকর্তাসহ সাতজন হালতিবিলে বেড়াতে আসেন। তারা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে খোলাবাড়িয়া গ্রামের পশ্চিম পাশে নৌকা থেকে প্রাপ্তি সাহা নামে এক শিক্ষিকা হঠাৎ নৌকা থেকে পড়ে যান। এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে লাফিয়ে পড়েন শিক্ষক পলাশ।
কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেই পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। প্রথমে নৌকার মাঝি ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরে রাজশাহীতে ডুবুরিকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরির দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তারা বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়ে না পেয়ে ফিরে যান।
পরের দিন রোববার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েও তার মরদেহ পাওয়া যায়নি। পরে নিখোঁজের দুইদিন পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হালতি গ্রামের পশ্চিমে সোমবার সকালে তার ভাসমান লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ইত্তেফাক/কেআই