নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলড্রেস পরা চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে উল্টো স্কুল চলাকালীন বাইরে ঘোরাফেরার অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই টিসি (ছাড়পত্র) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রায় এক মাস আগে স্কুল চলাকালীন ওই ছাত্রী ও তার এক সহপাঠী কাঁচপুর ইউনিয়নের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে এলাকায় গেলে সাড়ে ১১ বছর বয়সী এক কিশোর পেছন থেকে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে পরপর দুটি লাথি মারে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা অন্য কেউ পুরো দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে টিকটক ও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক হয়, যেখানে অভিযুক্ত কিশোরকে কান ধরে ওঠবস করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় এবং সে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা একজন পোশাক শ্রমিক। তিনি জানান, ভিডিওটি এক মাস আগের হলেও সম্প্রতি তা ভাইরাল হয়। তবে অপরাধী কিশোরের বিচার না করে উল্টো ‘স্কুল সময়ে বাইরে ঘোরাফেরা করার অপরাধে’ স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মেয়েকে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। গরিব হওয়ায় এখন মেয়েকে অন্য কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটায় স্থানীয় লোকজনই ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে। পাশাপাশি, স্কুল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ওই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

