শেফদের তারকা হয়ে ওঠার গল্পে এক নাম ‘আলী আজম’

রান্না এক সময় ছিল শুধুই ঘরের কোণে সীমাবদ্ধ একটি কাজ। কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের বিশ্বে রান্না কেবল পেট ভরানোর বিষয় নয় এটা এখন একধরনের শিল্প, পরিচিত ‘রন্ধনশিল্প’ নামে। আর এই শিল্পের নায়করা হলেন শেফ। এক সময় পর্দার আড়ালে থাকা এই পেশাজীবীরাই আজ উঠে এসেছেন লাইমলাইটে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়।

রন্ধনশিল্প এখন তরুণদের আগ্রহের পেশা হয়ে উঠেছে। দেশ-বিদেশের নামকরা শেফদের অনুসরণ করে এখন অনেক তরুণই স্বপ্ন দেখছে একজন শেফ হওয়ার। এ প্রজন্মের কাছেও এক পরিচিত নাম- শেফ আলী আজম, যিনি শুধু একজন অভিজ্ঞ মাল্টি-কুইজিন শেফ নন, বরং দেশের কফি সংস্কৃতি গড়ে তোলার অন্যতম পুরোধা, যার কারণে অনেকেই তাকে বলেন ‘কফি কিং’।

আলী আজমের শেফ হওয়ার যাত্রাটা খুব সাধারণভাবে শুরু হলেও, তার সাধনা এবং একাগ্রতায় তা পরিণত হয়েছে অসাধারণ গল্পে।
‘আমার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে,’ বলছিলেন আলী আজম। ‘ছোটবেলায় মায়ের রান্না দেখেই অনুপ্রাণিত হই। রান্নার প্রতি একটা ভালোবাসা তৈরি হয়। এসএসসি পাস করে ২০০১ সালে ঢাকায় আসি। শুরু করি রেস্টুরেন্টের কাজ, সেখান থেকে শেখার আগ্রহ নিয়ে নানা জায়গায় রান্না শিখি এবং পরে পাঁচ তারকা হোটেলেও কাজ করি।’

পেশাদার রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে তৈরি করেন একজন পরিপূর্ণ শেফ হিসেবে। বর্তমানে তিনি শুধু রান্নাই করেন না, তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করছেন নতুন নতুন শেফ ও বারিস্তা।

আলী আজম এখন ‘বারিস্তা ট্রেনিং বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালান, যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ২০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে বের হচ্ছে। কফি নিয়ে তার যাত্রা শুরু ১২ বছর আগে, যখন বাংলাদেশে কফির এতটা প্রচলন ছিল না। 

তিনি বলেন, ‘আগে ক্যাপাচিনো খেতে পাঁচ তারকা হোটেলে যেতে হতো। এখন রাস্তাঘাটেই পাওয়া যায়। এই পরিবর্তন আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করে।’

আলী আজম বিভিন্ন দেশ থেকে কফি নিয়ে ট্রেনিং করেছেন- মালয়শিয়া, নেপাল ও সিঙ্গাপুরে। তিনি একমাত্র বাংলাদেশি বারিস্তা ট্রেইনার যিনি এতগুলো আন্তর্জাতিক ট্রেনিং সম্পন্ন করেছেন। নেসলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
আজ তার হাতে তৈরি হয়েছে নিজস্ব কফি ব্র্যান্ড, গড়ে তুলেছেন একাডেমি, এবং তৈরি করেছেন প্রায় দুই হাজার দক্ষ বারিস্তা, যারা এখন কাজ করছে বিশ্বের নানা প্রান্তে।

আলী আজম বলেন, ‘শেফরা শুধু কিচেনেই সীমাবদ্ধ নন এখন। তারা একজন ক্রিয়েটিভ আর্টিস্টের মতো। ভালো রান্না মানে শুধু স্বাদ নয়, তার পরিবেশন, উপস্থাপন সব মিলেই তা শিল্প হয়ে ওঠে।’