রাজশাহীর মাটি বিএনপি ও জামায়াতের ঘাঁটি বলে পরিচিত। তবে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নবম সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনের সবকটিতে জয় পান আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। এর আগে ২০০১ ও ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের অষ্টম ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর পাঁচটি আসনের সবকটিতেই জয় পান বিএনপি ও চার দলীয় জোটের প্রার্থীরা।
এর আগে ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর পাঁচটি আসনের তিনটিতে বিএনপি, একটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী জয় পান। অভিযোগ রয়েছে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের দশম ও দ্বাদশ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জন এবং ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে একতরফা জয় পান আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠের পরিস্থিতি একেবারেই উলটো। ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না’; মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার এমন মন্তব্যের পর পালটে গেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ এবং তৃণমূলের পরিস্থিতি। আসন্ন নির্বাচনে রাজশাহীর সব আসন পুনর্দখল ও দখলের লড়াইয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীরা একই প্ল্যাটফরমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতায় সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। গত বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একযোগে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করে। ফলে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর পরই মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার পারস্পরিক সমঝোতায় ফাটল ধরে। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন পরস্পরের সঙ্গে কাজ করলেও উভয় দলের প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
সূত্রমতে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর সব আসনে বিজয়ের বিষয়টি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কাছে প্রেস্ট্রিজ ইস্যু হিসেবে দেখছেন। সাধারণ ভোটারদের সমর্থন নিজেদের পক্ষে নিতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী, সমর্থক ও অনুসারীদের নানা কৌশলে কাজ শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন রাজশাহীর সব আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া খেলাফত মজলিস রাজশাহী-১ আসন বাদে পাঁচটি আসনে, বাসদ তিনটি আসনে, গণসংহতি আন্দোলন দুটি আসনে ও গণঅধিকার পরিষদ একটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী-১, রাজশাহী-২ ও রাজশাহী-৬ আসনে প্রার্থী ঠিক করে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। এতে প্রার্থী ঘোষিত নির্বাচনি দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে।
সূত্রমতে, ছয়টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর কয়েকটিতে বিএনপির দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। রাজশাহী-২ (সদর) ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) বাদে বাকি চারটি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনুসারীরা প্রার্থী বদলের দাবি বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। তবে চারটি আসনের তিনটিতে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলের তৃণমূলে তেমন জনপ্রিয় নন বলে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীরাই দাবি করছেন।
শুধু রাজশাহী-৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতৃবৃন্দ একাট্টা বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে বিএনপিতে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। তবে প্রায় ১০ মাস আগে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর প্রস্তুতিতে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের কোনো নেতা প্রার্থিতা দাবি করেননি। এমনটা করার সম্ভাবনাও নেই বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা।
৫২ রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী ও তানোর): এই আসনে স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পাঁচ বার করে ১০ বার, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এক বার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এক বার বিজয়ী হয়েছেন।
২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ ২০০৮ সালের পর এই আসনে টানা তিন বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছেন। ১৯৮৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এই আসনে বিজয়ী হন। তাকে আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এই আসনে বিএনপির নতুন প্রার্থী দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহোদর। ব্যারিস্টার আমিনুল হক এই আসনে ১৯৯১, ১৯৯৫, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হন। এই আসনে বিএনপির আরো কয়েক জন নেতা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের নিয়ে একত্রে কাজ না করতে পারলে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিনকে।
এই আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা আহ্বায়ক আফজাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আরিফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী মহানগর কমিটির সদস্যসচিব আতিকুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মীর মো. শাহজাহান এই আসনে প্রার্থিতার আলোচনায় রয়েছেন।
৫৩ রাজশাহী-২ (সিটি করপোরেশন): এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই আসনে বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে বিএনপি পাঁচ বার, আওয়ামী লীগ দুই বার, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি তিন বার, জাতীয় পার্টির এক বার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দুই বার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া রাজশাহী-২ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আবারও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ইতিমধ্যে তিনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির রাজশাহী মহানগর শাখার নায়েবে আমির ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ফায়সাল হোসেন মনি, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মাদ উল্লাহ শাহীন, বাসদের জেলা সদস্যসচিব সামছুল আবেদীন প্রার্থী হয়েছেন।
৫৪ রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর): শহরের উপকণ্ঠের পবা উপজেলার সঙ্গে মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিগত ১২টি নির্বাচনের ছয়টিতেই বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এছাড়া বিএনপি চার বার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুই বার নির্বাচিত হন। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে আবারও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সফিকুল হক মিলন।
দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান, সফিকুল হক মিলনকে আনুষ্ঠানিক সমর্থনও করেছেন। কিন্তু রায়হানুল আলমের কিছু অনুসারী ও সাবেক ভূমিপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কবির হোসেনের ছেলে নাসির হোসেনের অস্থির সমর্থকেরা প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন দলটির মহানগর ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। অধ্যাপক আবুল কালাম দীর্ঘ দিন ধরে পবা উপজেলার হরগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিগত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সরকার আমলে উভয় দলের নানা কৌশল ও কারিশমা কখনো অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে জনতার রায় বঞ্চিত করতে পারেননি বলে জানা গেছে। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের জুয়েল রানা, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমান এবং খেলাফত মজলিসের গোলাম মোস্তফা এই আসনের প্রার্থী হয়েছেন।
৫৫ রাজশাহী-৪ (বাগমারা): জেলার বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে গঠিত এই আসনে এবার বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ডি এম জিয়াউর রহমান। বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ডিএম জিয়াউর রহমান বিএনপির তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়।
তবে দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিরাও তার বিরুদ্ধে একাট্টা। তার বিরুদ্ধে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা অভিযোগ তুলে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তুলেছেন। দলীয় কোন্দলের বিভিন্ন ঘটনার দায়ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে চালানোর অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই আসনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন ডা. আব্দুল বারী সরদার। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের আবু মুসা, খেলাফত মজলিসের ফেরদাউসুর রহমান এবং বাসদের জেলা কমিটির সদস্য ফিরোজ আলম প্রার্থী হয়েছেন।
৫৬ রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর): পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয় বার, বিএনপি পাঁচ বার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী এক বার নির্বাচিত হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক, রোকনুজ্জামান আলম, ইশফাক খায়রুল হক ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দখল থেকে আসনটি ছিনিয়ে আনা প্রয়াত সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার ছেলে জুলফার নাঈম মোস্তফা।
দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকেরা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলকে জনগণ থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ আখ্যা দিয়েছেন। তারা প্রার্থী বদলের দাবিতে দুই উপজেলায় নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন জেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. নুরুজ্জামান লিটন, ইসলামী আন্দোলনের রুহুল আমিন ও খেলাফত মজলিসের আব্দুল হামিদ প্রার্থী হয়েছেন।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট): বাঘা ও চারঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৭৯ সালে বিএনপি, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি, ২০০১ সালে বিএনপি এবং ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন।
আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে দ্বিতীয় বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে শেখ হাসিনাকে ‘কবরে পাঠানোর’ হুমকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ২৮টি মামলা করে আওয়ামী লীগ। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছর এবং আগের আমলে তার বিরুদ্ধে মোট ১০২টি মামলা হয়। এসব মামলায় কারাগারে থাকাকালে তিনি মা ও স্ত্রীকে হারান। বিএনপি তার ওপর আস্থা রেখেছে। এখানেও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও আবু সাঈদ চাঁদকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তারা কেউ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে মাঠে নামেননি।
এই আসনে জামায়াতের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলার সহকারী সেক্রেটারি নাজমুল হক। ইসলামী আন্দোলনের আমিনুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের তোফায়েল আহমদ প্রার্থী হয়েছেন। এই আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজশাহী বিভাগীয় সংগঠক ইমরান ইমন নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।