নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সরকারি কোয়ার্টারে ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে বেঁধে ও তার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ধরে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়।
এনিয়ে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে গুরুদাসপুর পৌর শহরের মধ্যে একই কৌশলে ৪টি ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ৩টি থানা কমপ্লেক্সের অদূরে ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি লুট হওয়া অর্থ ও মালামাল উদ্ধার হয়নি। ডাকাতির প্রবণতা বাড়ায় স্থানীয় লোকজন নিজেদের জানমাল নিয়ে চরম আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।
উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোর পাশের কোয়ার্টারের রূপালি ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে বাস করেন তিনি। শুক্রবার রাত তিনটার দিকে জানালার গ্রিল ভেঙে অন্তত ৩জন ডাকাত শোবার ঘরে প্রবেশ করে হত্যার হুমকি দেন। ডাকাতদের মুখমণ্ডল কালো কাপড়ে বাঁধা ছিলো। স্ত্রীর গলায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে তার হাত-পা এবং মুখ বেঁধে ফেলে ডাকাত দল।
এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী জানান, তার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তিনটি কক্ষের মালামাল লুট করা হয়। চেইন, আঙটিসহ ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, রূপার নূপুর, তিনটি এনড্রয়েট মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যান। প্রাণ ভয়ে তারা চিৎকার করতে পারেননি। ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর ইউএনও’র নৈশ্যপ্রহুরী তাদের উদ্ধার করেন।
জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল একই কায়দায় থানার অদূরে সোনাউল্লার বাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করা হয়। এ সময় ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করা হয়। ওই রাতেই পৌর শহরের আনন্দনগর গ্রামের রমজান হাজির বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি দুধেল গাভী লুট করা হয়। লুট করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারেও। এসব ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উদ্ধার করতে পারেনি লুট হওয়া অর্থ-সম্পদ। এসব ঘটনা ছাড়াও পৌর শহর এবং গ্রামে চুরির ঘটনা অব্যহত রয়েছে।
এ বিষয়ে থানা চত্বরের ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, হাজি আনিসুর রহমানসহ অন্তত ১৫জন ইত্তেফাককে জানান, মাদকের ভয়াবহতা বাড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে চুড়ি-ডাকাতি। থানার আশে পাশে চুড়ি-ডাকাতি অব্যহত থাকলেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলার এমন ভয়াবহ অবণতির কারণে তারা ব্যবসায়িক অর্থ-সম্পদ রক্ষাসহ নিজেদের প্রাণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। নিরাপদে ব্যবসা করার পাশাপাশি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চান তারা।
ভুক্তভোগী রমজান হাজি ও সানাউল্লাহ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে। বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি। অথচ থানা সংলগ্ন এলাকায় বাস করে তারা ডাকাতির শিকার হয়েছেন। থানায় অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এ বিষয়ে গুরুদাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাকে বেঁধে ডাকাতির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া আগের ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ গোপনীয়ভাবে কাজ করছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, চুড়ি-ডাকতি দুঃখজনক ঘটনা। প্রাচীরঘেরা উপাজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এভাবে ডাকাতি হওয়াটা খুবই উদ্বেগের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির উন্নতি ঘটাতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।