পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা ও ফুলঝুড়ি গ্রামে পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের হত্যা করা হয়।
নিহতরা হলেন, কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম ও একাধিক মামলার আসামি মো. ইউসুফ শরীফ।
থানা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাইয়ুম (৩০) নামে এক রেডিমেড কাপড় ব্যবসায়ীকে কুড়াল দিয়ে নিজ বসতঘর কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্ত। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনার সময় বাড়িতে তার পরিবারের কেউ ছিলেন না। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি।
নিহত কাইয়ূম উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের মো. জালাল হাওলাদারের ছেলে। নিহত ওই যুবক মঠবাড়িয়া শহরের সেতু সংলগ্ন এলাকায় রেডিমেড কাপড়ের ব্যবসা করে আসছিলেন।
অন্যদিকে একই দিনে রোববার সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে নামের একজনকে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নিজ বাড়ির উঠানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
নিহত ইউসুফ শরীফ উপজেলা ফুলঝুড়ি গ্রামের ফজলুল হক শরীফ এর ছেলে। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ মো. আরাফাত শরীফের সঙ্গে ইউসুফ শরীফের জমিজমা সংক্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। রোববার দুপুরে এ নিয়ে প্রতিপক্ষ মো আরাফাত শরিফের (৩০) এর নেতৃত্বে তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তারসহ (২৪) আরও দুইজন মিলে ইউসুফ শরীফকে বসতঘরের উঠানে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
পুলিশ খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে নিহতের মরদেহ বসতঘরের উঠান থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর হত্যাকারীরা উঠানে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল আলম দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ফুলজুরি গ্রামের ঘটনাটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। পৃথক ঘটনাস্থল হতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হচ্ছে।