৫১ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জেনারেল ওভারহলিং করে চালুর পাঁচ দিনেই বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩নং ইউনিট। বন্ধ হওয়া ইউনিটটি চালু করতে অন্তত দুই সপ্তাহ গেলে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩নং ইউনিটটি জেনারেল ওভারহলিং এর জন্য বন্ধ করা হয়।
টানা প্রায় সাত মাস ধরে ওভারহলিং করে গত ২০ মে বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে চালু করা হয়। এজন্য ব্যয় হয় ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা)। দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয়ে ওভারহলিং করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেরার পাঁচদিনেই ২৫ মে বড় ধরনের দুইটি যন্ত্রাংশ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইউনিটটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক প্রকৌশলী ও কর্মচারী জানান, ওভারহলিংয়ের নামে পুরাতন যন্ত্রাংশ ঘষামাজা করে লাগানোর জন্যই ইউনিটটি চালুর পাঁচদিনের মাথায় বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ওভারহলিং এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা ব্যক্তিরা এজন্য দায়ি।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ৩নং ইউনিটটি ওভারহলিং করে চালুর পাঁচদিনের মাথায় দুইটি বড় ধরনের যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইউনিটটি ২৫মে বন্ধ হয়ে যায়। চীন থেকে যন্ত্রাংশ আনা হচ্ছে। এজন্য অন্তত আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ওভারহলিং করতে ৪.২ মিলিয়ন ডলার দিতে হয়েছে। বর্তমানে ১নং ইউনিটটি চালু রয়েছে। এ ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৪৫-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে প্রধান প্রকৌশলী ওভারহলিং এর নামে পুরাতন যন্ত্রাংশ ঘষামাজা করে লাগানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোটখাটো মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বারবার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে, ১ ও ২ নং ইউনিটের প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং ৩ নং ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনোদিন এক সঙ্গে তিনটি ইউনিট চালু রেখে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।