অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তার তালিকা প্রণয়নে নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৮ নং ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন- এমন কিছু ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ফতেপুর ইউনিয়নের ৫৩০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী জনপ্রতি কৃষকদের মে, জুন ও জুলাই মাসে ১৫ কেজি করে মোট ৪৫ কেজি চাল এবং প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৯ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে মে ও জুন মাসের বরাদ্দ হিসেবে ৩০ কেজি চাল ও ৬ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে ফতেপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়নি। ফতেপুর দেওয়ানপাড়া কৃষক সেলিম মিয়া, আসলাম ও সাদেক সহ অনেকেই বলেন, ‘অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রকৃত কৃষক এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও সরকারি সহায়তা পাইনি। অথচ ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরের বাড়ির ছয়জন অকৃষক ব্যক্তির নাম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
ফতেপুর ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেখা আক্তার বলেন, ‘আমি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি আমার তালিকার অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় নেই।’
২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকাশিত তালিকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।’
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযুক্তি উঠেছে তা সঠিক নয়। আমার পরিবারে আমার ছেলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হিসাবে তালিকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া আর অন্য কেউ অনৈতিকভাবে কোন সুবিধা পাইনি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৮নং ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফি বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’