কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করার অভিযোগে তার বাবা, মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার আরেক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহতের বাবা লিটন, মা কাজল বেগম ও ভাই রাকিব। তাদের বিরুদ্ধে আব্দুল কাদেরকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গত ২৯ জুন উপজেলার হেসাখাল পদুয়াপাড়া-মেরকোট সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে অর্ধগলিত একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী নাজমা আক্তার মরদেহটি তার স্বামী আব্দুল কাদেরের বলে শনাক্ত করেন। পরদিন তিনি স্বামী হত্যার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওসি জানান, মামলার পর মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফেনী সদর উপজেলার সাদাপুর রেলগেট এলাকা থেকে ভবঘুরে অবস্থায় নিহতের বাবা লিটন ও ভাই রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে তাদের বাড়ি থেকে মা কাজল বেগমকে আটক করা হয়।
মামলার বাদী নাজমা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ২৫ জুন সকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর তার স্বামীকে মারধর করেন। ওই দিনই আব্দুল কাদের থানায় একটি অভিযোগ করেন। চার দিন পর একটি ডোবা থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আব্দুল কাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ২৫ জুন রাতে আব্দুল কাদেরকে আদ্রা গ্রামের তার নানা জলিলের বাড়ি থেকে এনে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ রান্নাঘরের মেঝের নিচে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে অটোরিকশায় করে মরদেহ একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি অটোরিকশা, একটি কোদাল ও একটি সাবল জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।