নারায়ণগঞ্জ

তোষকে মোড়ানো অবস্থায় সড়ক থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জে মোতালেব হোসেন (৬১) নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কের ফতুল্লার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের পাশ থেকে তোষকে মোড়ানো ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে গত বুধবার সকালে বাসা থেকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। সেদিন রাতেই তার শাশুড়ি নূর জাহান বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় এক মিশুক চালকসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সন্ধিগ্ধ খুনির বাড়ির পেছন থেকে মোতালেব মিয়ার ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন এবং একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবারসহ সন্ধিগ্ধ খুনি জাকির হোসেন পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোতালেব হোসেন ফতুল্লার মাসদাইর বাজার এলাকায় ‘জ্ঞানের আলো লাইব্রেরী’ নামে একটি বই বিক্রির দোকানের মালিক ছিলেন। ওই দোকান থেকে বিকাশ এজেন্টের কার্যক্রমও পরিচালনা করতে তিনি। পরিবার নিয়ে মোতালেব মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ছয় তলায় বসবাস করতেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ধার্মিক এবং একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিহতের শাশুড়ি নূর জাহান বেগম বলেন, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব বাসা থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান পরিবারের সদস্যরা। পরে মাসদাইর বাজারে গিয়ে দেখা যায় তিনি লাইব্রেরি খোলেননি। পাশের ব্যবসায়ীরাও কিছু বলতে পারেননি। 

পরে বুধবার রাতেই মোতালেবের নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালেই পুলিশের মাধ্যমে মেয়ের জামাই খুনের খবর পান তারা।

তিনি আরও জানান, মোতালেব দীর্ঘদিন ধরে মাসদাইর বাজারে ‘জ্ঞানের আলো’ নামে লাইব্রেরীর মালিক ছিলেন। সেখানে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হলে তারা দুজন একসঙ্গে ব্যবসা করেন। এক পর্যায়ে মোতালেব জাকিরের কাছে ৫ লাখ টাকা পাওনা হয়। তখন জাকির ব্যবসা থেকে সরে গেলেও সেই টাকা দিতে টালবাহানা করছিল। সেই টাকা আত্মসাৎ করতেই মোতালেবকে রাস্তা থেকে কৌশলে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

মাসদাইর এলাকাবাসী জানান, গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় কেন গ্যারেজ থেকে মিশুক বের করা হয়েছে এনিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়ার সঙ্গে গ্যারেজের মধ্যেই চালক ফারুকের তর্ক হয়। বিষয়টি আশপাশের লোকজন দেখেন। বৃহস্পতিবার সকালে যখন তোষকে মোড়ানো অবস্থায় পুলিশ মোতালেবের মরদেহ উদ্ধার করে তখন এলাকাবাসী নিশ্চিত হয় লাশটি সোহেল মিয়ার গ্যারেজের মিশুক ব্যবহার করেই ফেলা হয়েছে। ওই খবরে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে গ্যারেজ মহাজন সোহেল ও চালক ফারুককে আটক করে পুলিশে দেয়।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, আটক মিশুক চালক ফারুক পুলিশকে জানিয়েছে, মাসদাইর বাজারের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত জাকির হোসেন বুধবার রাত ৩টায় গ্যারেজে এসে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে গাড়ি বের করতে বলেন। সে অপারগতা প্রকাশ করলে জাকির তাকে জানায়, তার বাসায় একটি তোষকে ‘উলুশ’ পোকায় আক্রমণ করেছে। এজন্য সেটি ফেলে দিতে হবে। রাত ছাড়া সেটি ফেলা সম্ভব নয় জানিয়ে ফারুককে এ কাজ করতে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। তখন ফারুক গাড়ি নিয়ে বের হয়ে জাকিরের বাসার নিচে গেলে একটি তোষক তার গাড়িতে তুলে সেটি দূরে কোথাও ফেলে দিতে বলা হয়।

ফারুক তোষকটি পাশের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের পাশে ফেলে এসে টাকা নিয়ে গ্যারেজে এসে ঘুমিয়ে পড়ে।

পরিদর্শক আনোয়ার আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখে, বুধবার সকালে জাকির হোসেন হাসি দিয়ে মোতালেব মিয়ার কাঁধে হাত রেখে হাটতে হাটতে তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। এরপর ওই রাতেই জাকির হোসেনের বাসা থেকে একটি তোষক বের করে মিশুকে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ইজিবাইক চালক আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে হাজী ব্রাদার্স রোডের পাশে তোষকটি ফেলে দেয়। পরবর্তীতে জাকিরের বাড়ির পেছন থেকে মোতালেব মিয়ার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।  জাকির সপরিবারে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।