সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বললেন মেসি

বিশ্বকাপের মাঝেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনায় লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন টেলিভিশন সাংবাদিক সোফি মার্তিনেসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই এবার নিজেই মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। 

গত শনিবার ভোরে মায়ামিতে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে টেলিফের সাংবাদিক সোফির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মেসি। এ সময় সোফির গালে চুমু দেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। সে ঘটনার পরই সেই সাংবাদিকের সঙ্গে মেসির প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এই গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যমের সামনেই অনেকটা হাস্যরসের সুরে সোফিকে মেসি বলেন, ‘আমি যখন তোমার দিকে তাকাই, তখন মানুষ জিজ্ঞেস করে, কেন আমি তোমার দিকে তাকাচ্ছি। আর আমি যখন তোমাকে শুভেচ্ছা জানাই, তখনো তারা জানতে চায়, কেন আমি তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

একই সঙ্গে মেসি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সোফির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জবাবে সোফি বলেন, ‘এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ 

বিষয়টি প্রকাশ্যে পরিষ্কার করায় মেসিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর আগে সোফি জানিয়েছিলেন, গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো নিজেই তাকে একটি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। তিন সন্তানের জননী রোকুজ্জো লিখেছিলেন, ‘সোফি, চিন্তা কোরো না। এসব বাজে কথায় কান দিয়ো না।’

মেসি ও সোফিকে ঘিরে এই গুঞ্জনের শুরু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন সোফি। 

তিনি বলেছিলেন, টুর্নামেন্টের ফল যা-ই হোক না কেন, আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে মেসির অবদান কখনোই ম্লান হবে না। সেই সাক্ষাৎকারই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরে আর্জেন্টাইন টেলিভিশন অনুষ্ঠান পোদেমোস হাবলারে অংশ নিয়ে সোফি জানান, বিষয়টি তাকে এবং তার পরিবারকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল, ‘অনেক সময় পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে এমন কিছু বিষয়ও আসে, যা মোটেও ভালো নয়। এতে আমার পরিবার অনেক কষ্ট পায়।’

সোফি আরও যোগ করেন, ‘এ বছর মানুষ বারবার বলতে শুরু করল, ‘সে (মেসি) তোমার দিকে এভাবে তাকায় কেন?’—এ ধরনের নানা কথা। আমি এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম, যেখানে আমাকে এসবের ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। এটা আমার কাছে ভীষণ বিব্রতকর ছিল।’