তারুণ্যের শক্তি যখন শখ আর সৃজনশীলতার হাত ধরে, তখন জন্ম নেয় অনন্য কিছু সৃষ্টির। ঠিক তেমনি এক তরুণ ফয়সাল বিন আলম। একাধারে গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ফ্রিল্যান্সার, ফটোগ্রাফার এবং ভিডিওগ্রাফার। এর বাইরেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র ফেনী জেলা সমন্বয়ক এবং হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটি ফেনী’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে তার তৈরি ভিডিও কনটেন্টগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ফয়সালের ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির প্রতি টান ছোটবেলা থেকেই। বিগত ৫-৭ বছর ধরে শখের বশেই ভিডিও ধারণ করছেন এবং ইনস্টাগ্রামে নিজের আইডিতে শেয়ার করছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে, ঋণ করে একটি ড্রোন কেনেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি এই ড্রোন দিয়েই শুরু হয় নতুন মাত্রার কনটেন্ট তৈরি।
বিশ্বকাপের সময় ফেনী পৌরসভার উদ্যোগে শহরের বড় এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন ফয়সালের সামনে এক দারুণ সুযোগ এনে দেয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকেরা কীভাবে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একই সাথে উল্লাস ও হতাশা ভাগ করে নিচ্ছেন, এই সম্প্রীতির দৃশ্য তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি চেয়েছেন এই অনন্য উন্মাদনা, উল্লাস আর সম্প্রীতির মুহূর্তগুলো ক্যামেরার মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে দিতে।
ভিডিওগুলো আপলোড করার পর দেশ ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের দর্শকদের কাছ থেকেও দারুণ প্রশংসা পেয়েছেন ফয়সাল। লাখ লাখ মানুষের এই ভালোবাসাকেই তিনি কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন। কাজের প্রস্তুতি সম্পর্কে ফয়সাল জানান, তিনি খুব বেশি স্ক্রিপ্টনির্ভর কাজ করেন না। ড্রোনের মাধ্যমে পুরো পরিবেশের বিশালতা ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি মোবাইলের লেন্সে বন্দি করেন দর্শকদের আবেগ আর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। তার মতে, ভিডিও মানে শুধু সুন্দর কিছু শট নয়, মনের অনুভূতি তুলে ধরা।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তরুণদের এই উন্মাদনাকে ফয়সাল দেখেন একতার প্রতীক হিসেবে। খেলার মাঠে মতভেদ থাকলেও একসঙ্গে আনন্দ উদযাপনের যে সৌন্দর্য, সেটাই তিনি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চেয়েছেন। ভবিষ্যতে প্রফেশনালি সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে তার। বাংলাদেশের গল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের অনুভূতিগুলোকে নিজের ক্যামেরায় বন্দি করতে চান তিনি। নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উদ্দেশে এই তরুণ স্বপ্নবাজের পরামর্শ-শুরু করার জন্য সবকিছু পারফেক্ট হওয়ার অপেক্ষা না করে, যা আছে তা নিয়েই মাঠে নেমে পড়া উচিত। ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ করলে সফলতা আসবেই।