১০০ মানুষের কর্মসংস্থানের স্থান এখন ‘গ্রাম্য ফুড’

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ২০:০৯

যারা খাবার নিয়ে সচেতন, তাদের সুপার ফুড বিটরুটের ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে অজানা নয়। কিন্তু সেই বিটরুটকে যে আধুনিক স্প্রে ড্রাইং প্রযুক্তির মাধ্যমে রং, স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে পাউডার তৈরি করা হয়, এটি সম্পর্কে খুবই কম মানুষই জানেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফুড বিজনেসে বাজিমাত করেছেন ৩১ বছরের তরুণ হৃদয় হাসান।

ভারত থেকে আমদানিকৃত এই বিটরুট পাউডার বিক্রি করেই তিনি গড়ে তুলেছেন প্রায় শতাধিক কর্মীর প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে তিনি ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন। তার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছান। তার ই-কমার্স জার্নি প্রায় ৬ বছরের হলেও তিনি এই সুপারফুড স্প্রে ডায়েট বিটরুটের মাধ্যমে সবার কাছে বেশি পরিচিতি পান।

বর্তমানে হৃদয় হাসান গাজীপুরে তার কর্পোরেট অফিস পরিচালনা করছেন। অনার্সে পড়া অবস্থায় প্রথম বর্ষ থেকেই তার উদ্যোক্তা জার্নি শুরু। শেরপুরের ছেলে হৃদয় ২০২১ সাল থেকে শেরপুরের তুলসীমালা চাল নিয়ে কাজ শুরু করেন। তখন তিনি এটি বিক্রি করার জন্য ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে পোস্ট করতেন। সেখান থেকে যে অর্ডার আসত সেগুলো তিনি ডেলিভারির জন্য পাঠাতেন।

এরপর সুযোগ খুঁজতে থাকেন কীভাবে তার ব্যবসাকে বড় করা যায়। বিটরুট বিক্রি করার আগে তিনি চিয়াসিডসহ আরও অনেক সুপার ফুড নিয়ে কাজ করেন। তখন দেখলেন তার আশেপাশে ও কাস্টমারদের মধ্যে অনেকেই ফ্যাটি লিভার ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তিনি ওষুধের বিকল্প হিসেবে এই বিটরুট পাউডারের গুণাগুণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানলেন।

প্রথমে একজন ব্যবসায়ীর সহযোগিতা নিয়ে ভারত থেকে এই বিটরুট পাউডার আমদানি করেন। পরে সেটি ল্যাব টেস্ট ও বিএসটিআইসহ যাবতীয় লিগ্যাল ডকুমেন্ট নেন। আগে থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষ হৃদয়, তার প্রতিষ্ঠান গ্রাম্য ফুডের মাধ্যমে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেন। এর পরে শুরু হয় বিক্রি। বর্তমানে কয়েক লক্ষ মানুষ তার কাছ থেকে নিয়মিত এই স্প্রে ড্রাইড বিটরুট পাউডার নিচ্ছেন।

শেরপুর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে হৃদয়। ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া হৃদয় ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন বড় কিছু করার। এসএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষা অর্জনে গ্রাম থেকে শহরে আসেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি ও ব্যবসার জন্য চেষ্টা শুরু করেন। ২০২১ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজের জন্য কিছু করতে হবে। সামান্য কিছু টাকা নিয়ে শুরু করেন ‘গ্রাম্য ফুড’ নামে নিরাপদ, অর্গানিক খাদ্য ব্যবসা।

প্রথমদিকে প্রতিযোগিতা ছিল তীব্র, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাও কম ছিল। কিন্তু তিনি দমে যাননি। নিজেকে টিকিয়ে রাখতে বিজনেসকে এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ট্রেনিং নেন। ডিজিটাল মার্কেটিং আরও দক্ষতা অর্জন করেন। কঠোর পরিশ্রম আর সততার মাধ্যমে ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যান। হৃদয় হাসানের কঠোর পরিশ্রমে মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে গ্রাম্য ফুড এখন নিরাপদ ও অর্গানিক ফুড ব্র্যান্ড হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। যেখানে এখন ১০০ জন কর্মী কাজ করছেন। কৃষকদের থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে তা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

হৃদয় হাসান বলেন, ‘বর্তমানে ব্যবসা করতে হলে স্কিল অর্জন করতে হবে আগে। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এখন দ্রুত কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো যায়। সেলস শেখার পাশাপাশি কন্টেন্ট বানানো শেখা, ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার কোনো বিকল্প নেই। দেশি-বিদেশি মেন্টরদের পেইড কোর্স না ক্রয় করে ইউটিউবে অনেক ফ্রি কোর্স রয়েছে, সেগুলো থেকেও শেখা যায়। প্রশিক্ষণের জন্য খোঁজ-খবর নিয়ে সেখান থেকেও স্কিল অর্জন করা সম্ভব।’

ইত্তেফাক/এসএএস