ফেনীতে স্ত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় দিনমজুরকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা

ফেনী শহরের মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমন্ত স্ত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করার জেরে দিনমজুর নূর নবী হোসেনকে (৩০) হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. শাহ পরান ফয়সাল প্রকাশ সাদ্দাম হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) এ তথ্য জানান ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত সজল কান্তি দাস।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে ঘটিকার সময় মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকা নূর নবী হোসেন ও তার স্ত্রী বিবি ফাতেমার কাছে আসে দাগনভূঞা থানার দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে মো. শাহ পরান ফয়সাল। সেখানে সে ফাতেমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এতে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে ফাতেমার স্বামী নূর নবী বাঁধা দেন। একপর্যায়ে ফয়সাল নূর নবীকে মারধর করে সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে পেটের দুই পাশে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার পথে তার অবস্থার অবনতি হলে ফেনী সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনলে একই দিন সকাল ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নূর নবী হোসেন ভোলা সদরের নিচ কাছিয়া গ্রামের আবদুর রবের ছেলে। তিনি নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ফেনী এসে বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৫৫, তারিখ: ২৭/০৭/২০২৬) দায়ের করেন। পরে ফেনী মডেল থানা পুলিশ রোববার দিবাগত রাতে দাগনভূঞা থেকে অভিযুক্ত আসামি মো. শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত সজল কান্তি দাস জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ ইতিপূর্বে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।