ফরিদপুরে মৎস্য বিভাগের অভিযানে হামলা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ বাস্তুসংস্থান রক্ষায় অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের বিরুদ্ধে পরিচালিত মৎস্য বিভাগের অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অভিযানে অংশ নেওয়া কামরুল বিশ্বাস (৫০) নামে এক শ্রমিক আহত হন। হামলার সুযোগে দুর্বৃত্তরা জব্দ করা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি অবৈধ জাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আহত কামরুল বিশ্বাসকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চর বলাশিয়া এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র‍্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে চর বলাশিয়া এলাকায় অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ১৫ জনের একটি দল অংশ নেয়। অভিযান চলাকালে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযান চলাকালে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল অতর্কিতভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় শ্রমিক কামরুল বিশ্বাস আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা জব্দ করা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি অবৈধ জাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া অবশিষ্ট প্রায় ২২০টি অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করে নদের পাড়ে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজনন, পোনা সংরক্ষণ এবং নদী-জলাশয়ের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই এ ধরনের অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের সময় একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এতে একজন শ্রমিক আহত হন এবং হামলাকারীরা জব্দ করা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি জাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অবশিষ্ট প্রায় ২২০টি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আবরারের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সদরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেছুর রহমান জানান, অভিযানে দুটি ট্রলার ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটিতে পুলিশ সদস্যরা এবং অন্যটিতে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন। তিনি বলেন, পুলিশের ট্রলারটি আকারে বড় হওয়ায় অল্প পানির এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। এ কারণে হামলার সময় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।