রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দুটি জুয়েলারি দোকান থেকে ২৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারেরও কোনো হদিস মেলেনি। এদিকে মার্কেটের পাঁচ নিরাপত্তাপ্রহরী ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের খুঁজছে পুলিশ।
দারুস সালাম থানাধীন শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় থাকা আল রাজ্জাক জুয়েলার্স থেকে ২০০ ভরি এবং এ হোসেন জুয়েলার্স থেকে ৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে ভোরের মধ্যে যে কোনো সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দারুস সালাম থানার ওসি মো. দুলাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত চুরির ঘটনা। মার্কেটের যে পাঁচ নিরাপত্তাপ্রহরী ঘটনার পর থেকে পালিয়ে আছেন, তাদের এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। তাদের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে।
তিনি জানান, কলাবাগান থানাধীন সেন্ট্রাল রোডের ইভেন্ট গার্ড এলোকেশন লি. নামের প্রতিষ্ঠান থেকে ঐ পাঁচ জন নিরাপত্তা প্রহরী শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরীর বায়োডাটা নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। বায়োডাটায় যুক্ত করা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ভুয়া। শুধু ছবিগুলো ঠিক রয়েছে। বাকি সব তথ্য ভুয়া। এমনকি বায়োডাটায় তাদের দেওয়া গ্রামের বাড়ির ঠিকানাও ভুয়া।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্কেটের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি রাতে জুয়েলারি দোকান মালিকদের পক্ষ থেকেও একজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে ছিলেন। চোরেরা ঐ নিরাপত্তাকর্মীকে মিষ্টির সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে ফেলে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এদিকে আল রাজ্জাক জুয়েলার্সের মালিক জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজে নিরাপত্তাপ্রহরীদের চুরিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। পরিকল্পিতভাবে চুরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
২৫৯ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার থাকা দুটি দোকানে চুরির সময় মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা এবং সিসিটিভি ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
চুরির ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, আত্মগোপনে থাকা নিরাপত্তাপ্রহরীদের সঙ্গে বাইরে থাকা কোনো চক্রের যোগাযোগ ছিল কি না এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণ কোথায় সরানো হয়েছে, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ
শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের মতো ব্যস্ত মার্কেটে দুটি জুয়েলারি দোকান থেকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। চুরির পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়া এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধার না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্কণ্ঠা আরো বেড়েছে।
পুলিশ বলছে, আত্মগোপনে থাকা পাঁচ নিরাপত্তাপ্রহরীকে আইনের আওতায় আনা গেলে চুরির রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চুরি সংঘবদ্ধভাবে করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।