মানসিক দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রাণ ফেরান সম্পর্কে

একই ছাদের নিচে থাকেন, সংসারের সব দায়িত্বও একসঙ্গে সামলান, তারপরও দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক দূরত্ব। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে ভেতরে তারা অনুভব করছেন একাকীত্ব। মনোবিদদের ভাষায়, একে বলা হয় ‘ইমোশনাল লোনলিনেস’-যেখানে একসঙ্গে থেকেও মানুষ নিজেকে একা অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং যোগাযোগের অভাবের কারণে এই সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী কারণে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব। 

কথোপকথন কমে যাওয়া

সম্পর্কে মানসিক দূরত্বের অন্যতম বড় কারণ হলো যোগাযোগের অভাব। দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিস, সংসার, সন্তান কিংবা আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আবেগও কমতে থাকে।

অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া

অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিজের মনের কথা বলতে চান, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। বারবার এমন হলে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আর আগ্রহ পায় না। বরং ভিতরে জমতে থাকে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি।

মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ানোর অন্যতম কারণ। আগে সন্ধ্যায় বা রাতে সবাই একসঙ্গে সময় কাটাতেন। এখন বাড়িতে থাকলেও সময় কেটে যায় মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যম কিংবা ল্যাপটপে। একই ঘরে বসে দুজন আলাদা আলাদা স্ক্রিন দেখায় ব্যস্ত থাকেন। তখন তাদের মধ্যে যোগাযোগটা কমে যায়। 

ঝগড়া না হওয়াও সব সময় ভালো নয়

অনেকেই মনে করেন, ঝগড়া না মানেই সুখী সম্পর্ক। কিন্তু মনোবিদদের মতে, সব সময় তা সত্যি নয়। অনেক দম্পতি সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে নিজের কষ্ট, রাগ বা মতামত প্রকাশ করেন না। এতে তাদের মধ্যে থাকা সমস্যাগুলো অমীমাংসিতই থেকে যায়।  

ভালোবাসার প্রকাশ হারিয়ে যাওয়া

অনেক দম্পতিই ভাবেন সঙ্গীকে ধন্যবাদ দেওয়া, প্রশংসা করার প্রয়োজন নেই। কেউ কেউ ভালোবাসা প্রকাশ করাটাও অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, অথচ এসব অভ্যাসই সম্পর্কে ধরে রাখে।  

একসঙ্গে সময় না কাটানো

ব্যস্ততার কারণে অনেক দম্পতিরই নিজেদের জন্য আলাদা সময় থাকে না। একসঙ্গে হাঁটতে যাওয়া, কোথাও বেড়াতে যাওয়া, পুরনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা বা নতুন কোনও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ কমে গেলে মানসিক দূরত্ব বেড়ে যেতে পারে।  

শুধুই দায়িত্ব পালন

যখন সম্পর্কে ভালোবাসার জায়গা ছেড়ে শুধু দায়িত্ব পালনই প্রধান হয়ে ওঠে, তখন একাকীত্ব আরও গভীর হয়। একই ঘরে থেকেও দুজন মানুষ যেন আলাদা জীবন যাপন করতে শুরু করেন।

মানসিক দূরত্ব কমাতে যা করবেন 

• প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট শুধুমাত্র একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন।

• সব সময় অভিযোগ করবেন না, নিজের অনুভূতির কথা বলুন।

• সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শুনুন।

• মোবাইল ছেড়ে কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটান। 

• ছোট ছোট বিষয়েও কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে শুরু করুন।

• একসঙ্গে নতুন কোনো কাজ বা শখের কোনো কিছু শুরু করতে পারেন।

• দীর্ঘদিন সমস্যা চললে বিশেষষজ্ঞ কারও সাহায্য নিন।