শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, নিষিদ্ধ ক্রিম ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্ক-করসহ এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

দুবাই ও কলকাতা থেকে আসা বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়। শুল্ক ও করসহ এসবের মোট আনুমানিক মূল্য দুই কোটি চার লাখ সাত হাজার টাকা।

এনবিআর জানায়, দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট (বিজি-১৪৮) থেকে নামা যাত্রীদের ব্যাগেজ সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সময় এক নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে ব্যাগগুলো তল্লাশি করে মন্ড ব্র্যান্ডের ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া একই সময়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে আরও ১১১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ হওয়া সিগারেটগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রযোজ্য শুল্ক ও কর এবং ৬২১ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স (টিটিআই) হিসাব করলে এসব সিগারেটের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।

অভিযানে একই ফ্লাইটের যাত্রী মো. তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। তার পাসপোর্ট যাচাই করে কাস্টমস জানতে পারে, তিনি চলতি বছরের ১০ জুন শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার দেশে এনেছিলেন।

ব্যাগেজ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণালংকার শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ না থাকায় নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৫ টাকা এবং শুল্ক-করসহ মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া অভিযানে ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে কলকাতা থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১ লিটার বিদেশি মদ বা হুইস্কিও জব্দ করা হয়েছে। এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে ৬১০ দশমিক ৩০ শতাংশ শুল্ক-করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে বিদেশি সিগারেটের মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারের মূল্য ৩০ লাখ টাকা, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিমের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বিদেশি মদের মূল্য ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শুল্ক-করসহ জব্দ করা পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস আইন, ব্যাগেজ বিধিমালা ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে চোরাচালান, শুল্ক-কর ফাঁকি ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।