বিয়ে বাড়িতে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩

বগুড়া সদর উপজেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বকশিশের টাকা দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে তুমুল কথাকাটাকাটি থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষ চলাকালে বর পক্ষের স্বজনদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো এবং অন্তত ১৫টি দামি মোবাইল ফোনসহ সোনার গহনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে শাহ আলম ও সাগর নামের দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কনে পক্ষের দাবি, তারা কোনো হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ফেলুরপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে বগুড়া সদরের তিলেরপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের (১৮) পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে ঠিক হয়। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রীরা উৎসবমুখর পরিবেশে কনের বাড়িতে উপস্থিত হলে ফটকে প্রবেশের বকশিশের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে উপস্থিত লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দেন। পরবর্তীতে বগুড়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর পক্ষের স্বজনদের অভিযোগ, গেটের বকশিশের সামান্য টাকা নিয়ে মতবিরোধের জেরে কনে পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন বরযাত্রী বেধড়ক মারধরের শিকার হন। জাকিয়া আক্তার নামে বরের এক চাচাতো বোন অভিযোগ করে বলেন, কনে পক্ষের লোকেরা বরযাত্রীদের ভীতি প্রদর্শন করে, নারীদের লাঞ্ছিত করে এবং এমনকি কয়েকজনকে জোরপূর্বক পাশের পাটক্ষেতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালায়।

এছাড়া হামলার সুযোগে উপস্থিত অতিথিদের অন্তত ১৫টি মোবাইল ফোন ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বরের মামি মাহমুদা বেগম জানান, গেটে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলেও তারা ৫০০ টাকা দিতে চান। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে তারা বিয়ে না করেই ফিরে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কনে পক্ষের লোকজন পথরোধ করে তাদের মারধর করে এবং উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেয়।

অন্যদিকে, কনে পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, বর পক্ষের লোকজনই অতি সামান্য বিষয় নিয়ে প্রথমে আক্রমণাত্মক আচরণ করে এবং বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। ছিনতাই বা হামলায় কনে পক্ষের কেউ জড়িত ছিল না বলেও দাবি করেন তারা।

ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে বিয়ের ঘটক শামসুল হক জানান, বিয়ের আগেই পোশাক সংক্রান্ত সমঝোতা হলেও বিয়ের দিন বর পক্ষ হঠাৎ অতিরিক্ত শেরওয়ানির দাবি তোলে। তিনি নিজ উদ্যোগে শেরওয়ানি, মুকুট ও জুতা কিনে এনে বিষয়টি সামাল দেন। পরবর্তীতে গেটের বকশিশ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হলে ৭০০ টাকায় রফা হয়। তবে সব কিছু ঠিক হওয়ার পর কনের শারীরিক প্রতিবন্ধী দাদাকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী জানান, বকশিশের টাকা নিয়ে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। বর পক্ষ চলে যেতে চাইলে কনে পক্ষ ও স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ বরযাত্রীদের উদ্ধার করে। ঘটনায় আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং মোবাইল ফোনসহ মালামাল হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।