তামিমকে ছাড়া লড়াইয়ের প্রস্তুতি

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু তামিম ইকবালের। এরপর থেকে গত এক যুগে বেশ কয়েকবার ইনজুরির কারণে জাতীয় দলের বাইরে থেকেছেন। কিন্তু সুস্থ অবস্থায় জাতীয় দলের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। না, এবারও বাদ পড়েননি তামিম ইকবাল। নিজেই চেয়ে ছুটি নিয়েছেন জাতীয় দল থেকে।

মানসিক অবসাদের কথা উল্লেখ করে ছুটি চেয়েছিলেন জাতীয় দলের এই ওপেনার। তার চাওয়াকে সম্মান দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দল থেকে বিশ্রাম দেওয়া হবে তাকে। আর তামিম ইকবালের এই অনুপস্থিতিকে তরুণদের জন্য নিজেদের প্রমাণের ভালো একটা সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

তামিম বিশ্রাম চাওয়ার আগে বেশ কিছু দিন তার ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। বিশ্বকাপে খুব একটা ভালো করতে পারেননি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক হয়েছিলেন। সেখানে দল ফিরেছে হোয়াইটওয়াশ হয়ে। তামিম নিজেও রান পাননি। তবে বিসিবি পরিষ্কার করে বলেছে, ফরমের কারণে নয়, মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতেই তামিমকে ছুটি দেওয়া হচ্ছে।

বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেছেন, ‘দশ-বারো বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে ব্যাডপ্যাঁচ আসতেই পারে। এটা কোনো বড়ো ব্যাপার নয়। আমরা ওর ফরমকে কোনো বিবেচনায় নেইনি। সে দলের অটোমেটিক চয়েস। ও যেটা বলেছে, ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। ওর একটু বিশ্রাম দরকার। এটা আমাদের কাছেও সঠিক মনে হয়েছে। ফলে আমরা ওকে ছুটি দিয়ে দেবো।’

তামিমের এই অনুপস্থিতি কাজটা কঠিন করে দেবে নির্বাচকদের জন্য। তাকে বাইরে রেখেই ৩৫ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ইঙ্গিত দিলেন, তামিমের বদলি কোনো নতুন মুখ ঢুকে যেতে পারে চূড়ান্ত দলে।

তামিমকে ছাড়া সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কিছুদিন আগেই হয়েছে। গত বছর অক্টোবর-নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সিরিজ ও ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন না তিনি চোটের কারণে। তার বদলে দুই সিরিজে সুযোগ পেয়েছিলেন ফজলে হোসেন রাব্বি ও সাদমান ইসলাম। রাব্বি নিজেকে প্রমাণ করতে না পারলেও সাদমান টেস্টে একরকম নিজেকে স্থায়ী করে ফেলেছেন।

তামিমের বদলে টেস্টে সাদমানের ও টি-টোয়েন্টিতে লিটন দাস বা সৌম্য সরকারের সঙ্গে নতুন কোনো ওপেনারকে দেখা যেতে পারে। তবে নান্নু বলছিলেন, তারা প্রাথমিক দলের ক্যাম্প দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন, ‘তামিমকে ছাড়া আমরা গত বছরই দুটো হোম সিরিজ খেলেছি। এরকম সিনিয়র খেলোয়াড় না থাকাটা তরুণদের জন্য নিজেদের প্রমাণের বড়ো একটা সুযোগ। আমরা এখনো ঠিক করিনি, ওর বদলে চূড়ান্ত দলে কাকে নেব। তবে ক্যাম্পে যে বা যারা নিজেদের ফিটনেস ও স্কিল ভালো প্রমাণ করতে পারবে, তাদের সামনেই সুযোগটা বেশি থাকবে।’

তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে একটি টেস্ট ম্যাচ। এরপর আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে। দুইটিতেই অধিনায়ক হিসেবে ফিরে দলের দায়িত্ব নেবেন সাকিব আল হাসান।

ইত্তেফাক/এসআর