আজ ৩ আগস্ট, বিশ্ব তরমুজ দিবস। গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় ও রসালো ফল তরমুজের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং দীর্ঘ ইতিহাসকে তুলে ধরতেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দিবসটি পালন করা হয়।
তরমুজ শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও সমাদৃত। এ ফলে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকায় এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গরমের দিনে পানিশূন্যতা দূর করতে তরমুজকে অন্যতম উপকারী ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে প্রথম তরমুজের চাষ শুরু হয়। দ্বাদশ মিশরীয় রাজবংশের সময়কার বিভিন্ন নিদর্শন, এমনকি রাজা তুতানখামেনের সমাধিতেও তরমুজের বীজ পাওয়া গেছে। প্রাচীন মিশরীয় শিলালিপিতেও তরমুজের চিত্রের উল্লেখ রয়েছে।
আফ্রিকার কালাহারি অঞ্চলের বাণিজ্যপথ ধরে তরমুজের বীজ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ এবং নবম শতাব্দীর শেষ দিকে চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শত শত জাতের তরমুজ চাষ করা হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজে ক্যালোরি কম হলেও এতে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমে সহায়তা করে। ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ত্বককে সুস্থ ও চুলকে মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফলের পুষ্টিগুণ ও গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ৩ আগস্ট বিশ্ব তরমুজ দিবস পালন করা হয়।