গত দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটসহ তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
বুধবার সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলায় অবস্থিত ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৩ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সকাল ৬টা এবং সকাল ৯টায় পানির প্রবাহ বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত মাসেও তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল। তবে একদিন পর পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের সড়ক ডুবে যাওয়ায় অনেক স্থানে নৌকা ও ভেলাই এখন মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।
পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে কাজ করা হলেও তা টেকসই হয় না।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। সকাল ৬টা ও সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তিনি নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।