আবেগহীন যুবকরাই চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে মেয়েদের, কারণ কি?

ভালোবাসার হিসাব কখনোই সহজ নয়। অনেকটা অনিশ্চিত এক জুয়ার মতো— যেখানে না পাওয়ার আশঙ্কা জেনেও মানুষ বুকভরা অনুভূতি নিয়ে অপেক্ষা করে। ভালোবাসার টানে অনেক সময় আত্মসম্মান, অহং কিংবা বাস্তবতার হিসাবও ম্লান হয়ে যায়। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও প্রিয় মানুষটির একটি বার্তা, একটি ফোনকল কিংবা সামান্য মনোযোগের আশায় মানুষ বারবার ফিরে তাকায়। কিন্তু কেন এমন হয়?

মনের মানুষ আবেগহীন জেনেও নিজের অনুভূতি তাকে বোঝাতে কসরতে একবিন্দুও কার্পণ্য করে না কেউ। বিশেষ করে এ প্রবণতা বেশি দেখা যায় মেয়েদের ক্ষেত্রে। কিন্তু জানেন কেন এমনটি হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেগহীন যুবকরা আসলে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে মেয়েদের।  এ ধরনের যুবকরা আসলে বড্ড এলোমেলো। এদের কথা বলার ধরন, রসবোধ আর পাঁচজনের থেকে আলাদা। এদের চিন্তাভাবনা, নেতৃত্ব দেওয়ার ধরনও আলাদা হয়ে থাকে। জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরা পারদর্শী, যা মেয়েদের মনে জায়গা দখলে ম্যাজিকের মতো কাজ করে থাকে।

তবে সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে— এরা আপনার সবটা জানলেও নিজেকে কখনই উজাড় করে দেয় না। একদিন হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে মনে হবে, মানুষটিকে পুরোপুরি বুঝে ফেলেছেন। অথচ পরদিনই তার আচরণে দেখা মিলবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপের। এই অজানা দিকগুলোই মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি করে। আর মনোবিজ্ঞানে কৌতূহলকে আকর্ষণের অন্যতম শক্তিশালী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এই কৌতূহলই বাড়িয়ে দেয় আকর্ষণ। দুর্বার আকর্ষণ। 

অনেক সময় এমনও হয়, দিনের বড় একটি অংশ একসঙ্গে কাটালেও সম্পর্কের কোনো নির্দিষ্ট নাম দিতে চান না তিনি। কেউ কেউ প্রেমিকার তকমা দিলেও কমিটমেন্ট দেওয়ার ‘ভুল’ এরা করে না। কারণ, অনেকেই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির বদলে বর্তমান মুহূর্তের অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই অনিশ্চয়তাই অপর পক্ষের মনে প্রশ্ন, প্রত্যাশা এবং অস্থিরতা তৈরি করে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ সহজে পাওয়া জিনিসের মূল্য অনেক সময় কম অনুভব করে। যে মানুষটি সব সময় পাশে থাকবে— এমন নিশ্চয়তা তৈরি হলে তাকে হারানোর ভয়ও ধীরে ধীরে কমে যায়। কিন্তু যিনি যে কোনো সময় দূরে সরে যেতে পারেন, তাকে ধরে রাখার ইচ্ছা বরং আরও প্রবল হয়ে ওঠে। অনিশ্চয়তার এই মানসিক টানই অনেককে এমন মানুষের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কও করছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব আর আবেগগত দূরত্ব— এই দুটি বিষয় এক নয়। একজন মানুষ কম আবেগ প্রকাশ করতেই পারেন, কিন্তু সুস্থ সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মান, স্পষ্ট যোগাযোগ এবং দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। শুধুমাত্র অনিশ্চয়তা বা অবহেলাকে আকর্ষণ ভেবে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত মানসিক ক্লান্তি ও হতাশার কারণ হতে পারে।

ভালোবাসার ভিত্তি হওয়া উচিত বিশ্বাস, সম্মান ও আন্তরিকতা। রহস্য হয়তো সম্পর্কের শুরুতে আকর্ষণ তৈরি করে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি সম্পর্ক টিকে থাকে দুজন মানুষের খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক যত্ন এবং একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপরই।