লিভারের বিভিন্ন রোগের শুরুতে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। এ কারণে লিভার সুস্থ রাখতে আগেভাগেই জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা উচিত। কয়েকটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়মিত মেনে চলাই ভবিষ্যতে গুরুতর লিভার রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে লিভারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার হজমে সহায়তা, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ভিটামিন ও শক্তি সঞ্চয়সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে এই অঙ্গটি। আর লিভারের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটি অনেকাংশে নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে।
দীর্ঘদিন কিছু খারাপ অভ্যাস চালিয়ে গেলে এ অঙ্গটিও একসময় আর কাজ করতে পারে না। তখন ফ্যাটি লিভার, লিভারে প্রদাহ— এমনকি সিরোসিসের মতো গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে। আমাদের রোজকার এমন তিনটি অভ্যাস রয়েছে, যা ৪০ বছর বয়সের আগেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
নিয়মিত মদপান
অল্প পরিমাণে অ্যালকোহল পান করাকে অনেকেই ক্ষতিকর মনে করেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের ভাষ্য, লিভারের জন্য অ্যালকোহলের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। অ্যালকোহল গ্রহণের প্রতিবারই সেটি শরীর থেকে বের করতে লিভারকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন নিয়মিত মদপানের ফলে প্রথমে লিভারে চর্বি জমে, এরপর শুরু হতে পারে প্রদাহ। চিকিৎসা না নিলে একপর্যায়ে লিভারের কোষ নষ্ট হয়ে সিরোসিস বা লিভার ফেইলিওরের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য অ্যালকোহল যতটা সম্ভব কম পান করাই নিরাপদ।
অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড ও প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া
ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই নিয়মিত চিপস, বার্গার, পিৎজা, কোল্ড ড্রিংকস, কেক, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট নুডলসসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভর করেন। এসব খাবারকে আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড বলা হয়। এতে অতিরিক্ত চিনি, লবণ, অস্বাস্থ্যকর তেল ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে, ফলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা যতটা সম্ভব বাড়িতে তৈরি খাবার, শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও দীর্ঘদিন মানসিক চাপ
সারাক্ষণ কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা বা রাতে কম ঘুমও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে শরীরে বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে শুধু মনই ভালো থাকে না, লিভারও সুস্থ থাকে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, লিভার ভালো রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জাঙ্ক ফুড কম খেতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত পানি পান ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ধূমপান পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুম লিভারের সুস্থতা ধরে রাখতে সহায়ক।