লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে দেশটির বিভিন্ন শহরে ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন বহু মানুষ এবং ধসে পড়েছে অন্তত কয়েক ডজন ভবন। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ৭টা ৩৪ মিনিট পশ্চিম কলম্বিয়ায় এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার সংশ্লিষ্ট ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’ এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার (ইউএনজিআরডি-এর মতে ৭৯ কিমি)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে। এখন পর্যন্ত ওয়াই দে কাউকা (ভ্যালেও দে কাউকা) অঞ্চলে ২৭ জন, পেরেইরা শহরে ১৮ জন এবং মানিজালেস শহরে ২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া শুধু ক্যালি শহরেই অন্তত ২৫টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
দেশটির এহে কাফেতেরো পর্যটন এলাকার একাধিক শহর এবং মেডেলিনের আশপাশের ছোট ছোট অঞ্চলে ঘরের চাল ধসে পড়া ও দেয়ালে ফাটল ধরার খবর এসেছে। মেডেলিন শহরে সতর্কসংকেত বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অবকাঠামোগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেখানকার মেট্রো ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন মেয়র ফেদেরিকো গুতিয়েরেজ।
রাজধানী বোগোতাতেও ভবনের অ্যালার্ম বেজে উঠলে আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তবে বোগোতার মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান জানিয়েছেন, রাজধানীতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কেবল কিছু ভবনে ফাটল দেখা গেছে।
অন্যদিকে চোকো অঞ্চলের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি এক্সে এক বার্তায় জানান, প্রাদেশিক রাজধানী কিবদোতে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং ভবনগুলোর ক্ষতি হয়েছে। তিনি সম্ভাব্য আফটারশক বা অনুকম্পন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা