ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় নানা অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক নেতাদের চাপে পড়ে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতার নাম, একই পরিবারের আপন ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর নাম এবং একটি ওয়ার্ড থেকেই চারজনের নাম থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
গত ১২ আগস্ট এই নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে সমালোচনা এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Uno Fulbaria’-এর কমেন্ট বক্স বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সুপারভাইজার এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য ৩ হাজার ৩০০ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। টানা ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) নেওয়ার পর প্রার্থীদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সেই প্রত্যাশা হতাশায় রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, নাওগাঁও ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফুলবাড়িয়া পৌরসভায় আপন ভাই-বোন এবং অপর এক ইউনিয়নে স্বামী-স্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের নিজ ইউনিয়ন বাকতার ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে চারজনকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের নামও তালিকায় রয়েছে।
বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, মেধা যাচাইয়ের নামে সাধারণ প্রার্থীদের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। তারা জানান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বাড়ি ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। তিনি ২০২২ সাল থেকে নিজ উপজেলাতেই কর্মরত। কিছুদিন আগে তার বদলি হলেও তিনি অন্য উপজেলায় যোগদান না করে পুনরায় এখানেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে নিজ উপজেলায় চাকরি করার সুবাদে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন এবং বিভিন্ন ভাতা বিতরণে অনিয়মে জড়িয়েছেন। বিশেষ করে রাধাকানাই ইউনিয়নে সুস্থ ব্যক্তিকে পঙ্গু দেখিয়ে ভাতা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বদলির বিষয়টি স্বীকার করেন। নিয়োগের অসঙ্গতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক চাপের কারণে মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি।’ তবে চূড়ান্ত তালিকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা, ভাই-বোন বা স্বামী-স্ত্রীর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারির চূড়ান্ত তালিকায় যদি কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকে বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’