২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে চিঠি লিখলেন জেলা প্রশাসক

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভালো ফল করা ঢাকার জেলার ২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। চিঠির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বই, ফুল ও মিষ্টিও উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠিতে শিক্ষার্থীদের সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে ফরিদা খানম বলেন, তাদের মধ্যে তিনি শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থী নয়, ভবিষ্যতের একজন আলোকিত মানুষকে দেখতে পাচ্ছেন। এসএসসিতে তাদের অর্জন ঢাকা জেলার জন্যও গৌরবের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠিতে তিনি লেখেন, এসএসসিতে শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য তাদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবিচল আস্থা ও ত্যাগের ফল। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তারা এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এসএসসির ফলাফল কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের দীর্ঘ যাত্রার সূচনা। উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন অধ্যায়ে তাদের আরও কৌতূহলী, সাহসী ও জ্ঞানপিপাসু হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।

শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হওয়ার পরামর্শও দেন ফরিদা খানম। নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে এমন মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান, যারা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যখন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন যেন পেছনে ফিরে বলতে পারে—তারা নিজেদের স্বপ্নকে সম্মান করেছে, মেধার মর্যাদা রেখেছে এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছে।

জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে হঠাৎ এমন অভিনন্দন বার্তা ও উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০২ সালে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সরাসরি চিঠি লিখেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই চিঠির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দুটি করে বইও উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের সাফল্য শুধু তাদের পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গর্ব নয়, এটি ঢাকা জেলারও গর্ব। এই ছোট্ট উপহার ও চিঠির মাধ্যমে আমি তাদের জানাতে চেয়েছি, তাদের মেধা ও স্বপ্নের প্রতি জেলা প্রশাসনের আন্তরিক শুভকামনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যেন ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে নিজেদের গড়ে তুলে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে—এটাই জেলা প্রশাসনের প্রত্যাশা।