সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ যেন অধ্যক্ষ মাহবুবুরের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান 

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪২

কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক শিক্ষক কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। নিজের আত্মীয় স্বজনদের নিয়োগ দিয়ে স্কুলটিকে একপ্রকার নিজের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করার অভিযোগ উঠেছে।

মূলত গভর্নিং বডি নির্বাচন উপলক্ষে নিজের আপন চাচাতো ভাইকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী করার শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করেছে। এবং প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের আত্মীয় স্বজনদের বসিয়ে নিজের আধিপত্য বলয় তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।

অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও তার স্বজনরা

শিক্ষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে দৈনিক ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়া। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে অধ্যক্ষের স্বজনপ্রীতির চিত্র। স্কুলের কলেজ শাখার ইনচার্জ তুহিন সম্পর্কে অধ্যক্ষের আপন শ্যালক, স্কুলের দিবা শাখার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন অধ্যক্ষের মামাত ভাই, ইংলিশ শাখার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ অধ্যক্ষের মামা শ্বশুরের মেয়ের জামাই। 

গভর্নিং বডি নির্বাচনের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে এবার নির্বাচনে একক প্রার্থী করা হয়েছে মো. ওমর ফারুক মোল্লাকে তিনি সম্পর্কে অধ্যক্ষের আপন চাচাতো ভাই। এছাড়া আহসান হাবিব মোল্লা চাচাতো ভাই। সজিব ভাতিজি জামাই। অফিস সহকারী জুয়েল অধ্যক্ষের ভাতিজা। মূলত এই জুয়েলই ভর্তি বাণিজ্যে মূল হোতা। সকল অর্থের লেনদেন জুয়েলের মাধ্যমেই হয়ে থাকে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষক। এমনকি অধ্যক্ষের আপন ছোট মেয়ে একবছর আগেও এখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত ছিলেন। 

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া মূলত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়। শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এনটিআরসিএ কর্তৃক আয়োজিত প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ অর্জন করতে হয়। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করে এনটিআরসিএকে জানায়। শূন্য পদের বিপরীতে এনটিআরসিএ অনলাইনে আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

প্রার্থীরা নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে পছন্দসই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা বা চয়েস প্রদান করেন। প্রার্থীর মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর অনুকূলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয় এবং পরবর্তীতে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে হয়।

এতো সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যেখানে শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা, সেখানে সারাদেশের হাজার হাজার চাকুরী প্রত্যাশি থেকে যোগ্যরা চাকুরী পাওয়ার কথা, সেখানে ঘুরেফিরে অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার আত্মীয় স্বজনরা নিয়োগ পাচ্ছে। ফলে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন উঠেছে। 

মূল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে। নিয়ম অনুযায়ী এ পদের জন্য এনটিআরসিএ নিয়োগ প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে।  কিন্তু অধ্যক্ষ নিজের আপন মামাতো ভাইকে এ পদে সরাসরি নিয়োগ দিয়েছেন। নামসর্বস্ব কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের মতো করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষকরা। 

নাম গোপন রাখার শর্তে একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ সাবেক সহকারী শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় অধ্যক্ষ নিজের মামাতো ভাইকে বসিয়েছেন, ওনার থেকে অনেক ভালো সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন, তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। আবার নিয়োগ প্রক্রিয়াও সঠিক ভাবে করা হয়নি। এটা বড় অনিয়ম। 

শুধু নিজের আত্মীয় স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছেন তা নয়। সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে  রাজধানীর মাতুয়াইলের কোনাপাড়া ফার্মমোড়ে গড়ে উঠেছে।  অধ্যক্ষ নিজেও মাতুয়াইলের বাসিন্দা।  অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে ১০০ অধিক শিক্ষক-কর্মচারী স্থানীয় মাতুয়াইলের বাসিন্দা।  ফলে এসব শিক্ষকদের নিয়োগেও অধ্যক্ষর সুপারিশ বা যোগ- সাজস রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ যেনো অধ্যক্ষের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ বিষয়ে জানতে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিয়ে, খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য কোনো পাওয়া যায়নি।

 
ইত্তেফাক/এমএএম