হিংসুক আত্মীয়দের দূরে রাখার তরুণদের নতুন কৌশল ‘সফট ব্লকিং’

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে সরাসরি ব্লক না করেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে দূরে রাখা যায়। তরুণদের মধ্যে এমনই এক নীরব কৌশল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যার নাম ‘সফট ব্লকিং’। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বর্তমান সমাজে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তবে এই ফেসবুকের দুনিয়ায় কার সঙ্গে কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন, কোন রেস্তোরাঁয় কবে খেয়েছিলেন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে সেটি অনেকের নজরে পড়ে। বিশেষ করে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের কেউ যদি নিয়মিত এসব খোঁজখবর নিতে থাকেন, তখন অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন।

এমতাবস্থায় অনেকে সরাসরি ব্লক করে দিতে চান। তবে সেক্ষেত্রে আবার পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই কাউকে পুরোপুরি ব্লক না করে ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূরত্ব তৈরি করার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে সরাসরি ব্লক না করেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে দূরে রাখা যায়। তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এমনই এক নীরব কৌশল। এর নাম ‘সফট ব্লকিং’। 

সফট ব্লকিং কী?

সফট ব্লকিং হলো কাউকে সরাসরি ব্লক না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে নীরবে দূরত্ব তৈরি করা। এর কয়েকটি উপায় রয়েছে। 

কারও পোস্ট বা গল্প নিজের সামনে না আসার জন্য তাকে নীরব করে রাখা যায়। আবার নিজের পোস্ট বা গল্প নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে লুকিয়েও রাখা যায়।

এছাড়া কাউকে অনুসরণ না করা, নিজের অনুসারীর তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা তাঁর বার্তার উত্তর দেওয়ার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়াও এই পদ্ধতির মধ্যে পড়ে।

মানুষ কেন সফট ব্লকিংয়ের পথ বেছে নিচ্ছেন?

১. ব্যক্তিগত জীবনে গোপনীয়তা: নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সকলকে অবহিত না করা।

২. ব্রেকআপ বা বিচ্ছেদ: সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রাক্তনের সঙ্গে সরাসরি ঝগড়া না করে দূরত্ব বজায় রাখা।

৩. দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলা: সামনাসামনি কঠিন কোনও আলোচনা বা বাকবিতণ্ডা এড়িয়ে চলা।

সফট ব্লকিংয়ের অভ্যাস কি আদৌ ভালো?

এটি নির্ভর করছে সেই ব্যক্তির উদ্দেশ্য কী সেটার ওপর। ধরা যাক, বিচ্ছেদের পর মানসিক ভাবে নিজেকে সামলাতে বা কোনও প্রাক্তনকে নিজের দৈনন্দিন জীবন থেকে দূরে রাখতে চাইলে কেবল নিজের প্রয়োজনে সফট ব্লক করা যুক্তিযুক্ত। আবার, কেউ যদি আপনাকে সফট ব্লক করে এই আশায় যে, আপনি তার পিছনে ছুটে বেড়াবেন, অপরাধ বোধে ভুগবেন বা তার কাছে জানতে চাইবেন ‘কী হয়েছে’, ‘কী তার অপরাধ’— তাহলে সেটি কিন্তু এক ধরনের ম্যানিপুলেশন।

প্রয়োজন বুঝে সীমারেখা তৈরি করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও সেখানে সব তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের গোপনীয়তা ও মানসিক স্বস্তির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন সীমারেখা তৈরি করা যেতে পারে।

একইসঙ্গে ‘রেস্ট্রিকটেড তালিকা’ ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্দিষ্ট কিছু লোককে ব্যক্তিগত পোস্ট দেখানো থেকে বিরত রাখবে। 

ডেস্কটপ ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করবেন যেভাবে 

ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহার করে কোনো অ্যাকাউন্টকে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করা বেশ সহজ। কারণ ডেস্কটপ সংস্করণে একসঙ্গে অনেককে যুক্ত করা যায় ও তালিকাটি নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ। ডেস্কটপ ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—
১. কম্পিউটার থেকে পছন্দের মতো ব্রাউজার চালু করুন। 
২. এরপর ফেসবুকের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে লগ ইন করুন। 
৩. বাম পাশে থাকা ‘ফ্রেন্ডস’ ট্যাবে ক্লিক করুন। 
৪. এরপর ‘কাস্টম লিস্টস’ এ নির্বাচন করুন। 
৫. এখন ‘রেস্ট্রিকটেড তালিকা’ অপশনে ক্লিক করুন। 
৬. এবার ‘অ্যাড/রিমুভ’ বাটনে এ ক্লিক করুন। ফলে একটি পেজ চালু হবে। 
৭. যেসব ফেসবুকস বন্ধুদের রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করতে চান তাদের নাম পেজের সার্চ বারে টাইপ করুন। সার্চ ফলাফলে তাদের নাম দেখা গেলে নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচন করুন। তারপর ‘সেভ’ বাটনে ক্লিক করুন। 
রেস্ট্রিকটেড তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইলে নামের পাশে থাকা ‘X’ বাটনে ক্লিক করুন। 

স্মার্টফোন ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করবেন যেভাবে-

অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস অ্যাপ ব্যবহারে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করা প্রক্রিয়াটি একটু ঝামেলার। কারণ প্রতিটি অ্যাকাউন্ট একে একে যুক্ত করতে হবে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—
১. স্মার্টফোনে ফেসবুক অ্যাপ চালু করুন। 
২. যে অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক তালিকায় যুক্ত করতে চান তার প্রোফাইলে প্রবেশ করুন। 
৩. প্রোফাইলের ওপরে থাকা ‘ফ্রেন্ডস’ বোতামে ট্যাপ করুন। 
৪. এরপর ‘এডিট ফ্রেন্ড লিস্ট’ নির্বাচন করুন। 
৫. এখন ‘রেস্ট্রিকটেড’ অপশন নির্বাচন করুন। 
আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড এই তালিকা তৈরি করা প্রায় একই। তবে আইওএসের ক্ষেত্রে ৫ নম্বর ধাপের পর ‘ডান’ অপশনে ট্যাপ করতে হবে।