দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত এক সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কর্মসূচিতে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়।
তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষার কোর্স চালু হবে, তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত করার কথা বলেছে কমিশন।
কমিশন বলছে, দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে এ কর্মসূচির আওতার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অবস্থান নির্ধারণের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে এবং এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে এ উদ্যোগের বাইরে না থাকে, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো এবং অবস্থান নির্ধারণে একটি কমিটি পুনর্গঠন করেছে ইউজিসি। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনশক্তির চাহিদা, স্থানীয় মানুষের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষা চালু হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আটটি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি হবে। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে এবং এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
বিদ্যমান ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, পরিচালিত কোর্স, প্রশিক্ষক ও জনবল কাঠামো এবং অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করার কথা বলেছে কমিশন।
সভায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিজ্ঞ ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ, ইউজিসি সচিবালয়ের সচিব মো. ফখরুল ইসলাম।