পাবনার সাঁথিয়ার পাগলা ও সুজানগরের মোবারকপুর থেকে আগামী ২০ বছর দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন আশায় সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে গ্যাস কূপ পরিত্যাক্ত না করে দ্বিতীয় কূপ খননের কাজ মোবারকপুরে শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লেরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। পাগলা গ্রামে খনন কাজ শেষ করে পাইপের মুখে আগুন জ্বালানো হলেও অজ্ঞাত কারণে তা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।
সেখান থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী মালামাল হস্তান্তর করা হয় ২০১৭ সালের দিকে। তবে জমি লিজ ও খনন এলাকা এখনও রক্ষণাবেক্ষণ করছে বাপেক্স।
বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলায় গ্যাসের সন্ধানে ছয় কিলোমিটারের বেশি গভীরে কূপ খনন করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।
সুজানগর উপজেলার মোবারকপুরে এ কূপ খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম। তিনি জানান, বর্তমানে উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে ছয় একর জমিতে প্রকল্পের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। সফল হলে এটি হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্যাস কূপ।
সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, উপজেলা প্রশাসন ওই জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করেছে।
অন্যদিকে বাপেক্স জানায়, জমি উন্নয়ন ও রিগ ফাউন্ডেশনের জন্য ২৭ জুলাই থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে।
মূল কূপ খননের কাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি। খনন সফল হলে ওই বছরের শেষ নাগাদ গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে, এখান থেকে আগামী ২০ বছর দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, ২০১৪ সালে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোবারকপুরে সাড়ে চার কিলোমিটার গভীরে কূপ খননের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভূগর্ভে গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় এবং সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি স্থগিত করা হয়। এবার আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।
এস এ এম মেরাজুল আলম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে একনেক এক হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর একটি মোবারকপুর ডিপ-১।
তিনি বলেন, এবার ছয় কিলোমিটারের বেশি গভীরে কূপ খনন করা হবে। এ কাজে চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কুমিল্লায় খননকাজ করছে। সেখানে কাজ শেষ হলে ড্রিলিং রিগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোবারকপুরে আনা হবে।
পাবনার এই এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনার কথা জানা যায় কয়েক দশক আগে। ১৯৮০-৮১ সালে পেট্রোবাংলা প্রথম জরিপ চালায়। পরে ১৯৮৩-৮৪ সালে একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান এবং ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে বাপেক্স কয়েক দফা জরিপ করে। এসব জরিপে এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনার তথ্য পাওয়া যায়। ২০০৯ সালের দিকে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে ২৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে গ্যাস অনুসন্ধ্যান ও কূপ খনন করা হয়। কূপ খননের পর তা থেকে পাইপ লাইনে আগুন জ্বালানো হলেও পরবর্তীতে তা ফেলে অন্যত্র চলে যায় বাপেক্স।’
স্থানীয়দের ধারণা, পাগলা কূপ থেকেই গ্যাস উত্তোলন সম্ভব ছিল। অজ্ঞাত কারণে সরকারি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাপেক্স এখন আবার মোবারকপুর কূপ খননের কাজ করে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বাপেক্স জানিয়েছে, আগের পাগলা অনুসন্ধানস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে এবার নতুন গভীর কূপ খনন করা হচ্ছে। এই কূপে সাফল্য এলে আশপাশের এলাকায় আরও কূপ খননের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য দেশে সফলভাবে খনন করা গ্যাসকূপগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। এর আগে উত্তরবঙ্গের পাবনা সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামের গ্যাসকূপের সন্ধান মিললেও তা উত্তোলন সফল হয়নি। ফলে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার মানুষের স্বপ্ন স্থানীয় একটি গ্যাসক্ষেত্রের। বর্তমানে যে এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে, সেটি আগের প্রকল্প (পাগলা গ্রাম) এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে।