ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সেই সঙ্গে এনসিপির কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি।
তবে জেলা প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির নির্ধারিত অনুষ্ঠান হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহর ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে এনসিপির ওই অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডাক দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। তবে এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে উল্লেখ করে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহর দুঃখ প্রকাশের পর নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।’
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপি শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সমাবেশ হবে, সেটা জানায়নি। সেজন্য আমরা অনুমতি ওইভাবে দিতে পারি না। কারণ শিল্পকলায় কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না।
প্রসঙ্গ, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারে ব্যর্থতার বিষয়ে সমালোচনা করেন।

