ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল ছাত্রাবাস (পেইং গেস্ট) ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ভবনটির ধ্বংসস্তূপে এখনো ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এআইআইএমএস) চিকিৎসাধীন আরও এক আহত শিক্ষার্থী মারা গেলে নিহতের সংখ্যা ৫ জনে পৌঁছায়।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতার’ মতো গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে।
এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রোববার বেলা ১টা ৩৪ মিনিটের দিকে নয়াদিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাস থানায় ভবনধসের খবর আসে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবনটি ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, পাঁচতলা ভবনটির নাম ছিল ‘হোস্টেল ডেজ’। এটি ছেলেদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হতো। প্রাথমিক খবরে ভবনটিকে ছয়তলা বলা হয়েছিল।
ওই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, পাশের একটি ভবনও ধসে পড়েছে। কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। ভবনে ঠিক কতজন ছিলেন, তা নিবন্ধনের রেকর্ড পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি), সিটিএস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে সত্য নিকেতনে ভবনধসের ঘটনায় আজ সন্ধ্যায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) সিভিক সেন্টারে অবস্থিত কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। ভবনধসের ঘটনায় এমসিডির কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় ছাত্রাবাসটির বেশির ভাগ শিক্ষার্থী নিজেদের কক্ষে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস