দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই বার বৈঠক। প্রথমটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে। দ্বিতীয়টি দিল্লিতে। ব্রিক্স সম্মেলনের আগে গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাণিজ্য ও জ্বালানির মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি বৈঠকে উঠে আসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংঘাতের কথাও। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের ওপরে জোর দেন।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়েনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এদিকে দীর্ঘ সাত বছর পর আজ দিল্লিতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তামিল দার্শনিক তিরুভল্লুভারের লেখা নীতিশাস্ত্রের গ্রন্থ ‘তিরুকুড়াল’-এর ইংরেজি অনুবাদ পুতিনকে উপহার দেন মোদি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অর্থনীতি, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও মহাকাশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। আলোচনায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের বিষয়ে আলোচনা হয় দুই নেতার। এই সংঘর্ষগুলো যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও কথাবার্তা হয় মোদি ও পুতিনের। গতকালের বৈঠক শেষে ফের একবার একসঙ্গে একই গাড়িতে উঠেন মোদি-পুতিন।
গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে এসসিও সম্মেলনে গিয়ে পুতিনের লিমুজিনে উঠেছিলেন মোদি। গতকালের বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার। গত মার্চ মাসে ভারতকে ‘এসইউ-৫৭ই’ (এসইউ-৫৭-র এক্সপোর্ট ভ্যারিয়েন্ট) যুদ্ধবিমানের ‘যৌথ উত্পাদন’ এবং ‘সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরে’র প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা আরো তাত্পর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মোদি-পেজেশকিয়েন বৈঠক : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে দিল্লিতে আসেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়েন। তার এই সফরকে তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আজ শনিবার থেকে শুরু বৈঠকের আগেই গতকাল তার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। মোদি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, সমুদ্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। —আনন্দবাজার পত্রিকা