বুধবার রাতে রাজশাহীতে হঠাত্ দমকা হাওয়ায় পদ্মা নদীতে ১০/১২ ফুট উঁচু ঢেউয়ে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত এবং বাম তীরে নোঙর করা অন্তত ২০টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। নৌকা ও সরঞ্জাম রক্ষায় গিয়ে অন্তত ২০ মাঝি আহত হয়েছেন। তাদের ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে হঠাত্ দমকা হাওয়ায় উত্তাল হয়ে ওঠে পদ্মা। বড় বড় ঢেউ বাম তীরে আছড়ে পড়ে। এতে ঘাটে নোঙর করা নৌকা একটির ওপর আরেকটি উঠে ডুবে যায়। নৌকা ও মাছ ধরার সরঞ্জাম রক্ষা করতে গিয়ে অনেকে আহত হন। পাঁচ মাস আগে নির্মিত প্রায় ৭৫ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডুবে যাওয়া নৌকা ও ইঞ্জিন উদ্ধারে যাওয়া অনিক বলেন, নোঙর করা তিনটি নৌকা তাদের আয়ের উত্স। রাতভর চেষ্টার পরও তারা নৌকার সন্ধান পাননি।
অন্যদিকে বিকেলে পদ্মার টি-গ্রোয়েন এলাকায় দেখা যায়—ঢেউয়ের আঘাতে সম্প্রতি নির্মিত ৭৫ মিটার ব্লকের প্রায় ৮০ শতাংশ ধসে পড়েছে। বাঁধের ইটের ব্লক নদীতে বিলীন হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। এতে কেশবপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সাইফুল ইসলাম (৬০) বলেন, ‘বিগত ৪০ বছরে এমন ঢেউ দেখিনি। হঠাত্ ১০/১৫ ফুট উঁচু ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ে নৌকাগুলো ডুবিয়ে দেয়।’ টি-গ্রোয়েন এলাকায় তাসনিমা বেগম বলেন, ‘বড় বড় ঢেউ আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তীরে আছড়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পদ্মা ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নেবে মনে হয়েছিল।’
ডুবন্ত নৌকা উদ্ধারের চেষ্টাকারী আলতাব আলী বলেন, ‘নৌকাটি পুরোপুরি তুলতে না পারায় পানির নিচে থাকা শ্যালো মেশিন খুলে আনার চেষ্টা করেছি। একটি ছোট নৌকা তুলতেও ছয়/সাত জন মানুষের প্রয়োজন।’
এদিকে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্তের খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা পৃষ্ঠা ২ কলাম ২
প্রায় ৭৫ মিটার বাঁধ
২০ পৃষ্ঠার পর
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়রা নতুন নির্মিত বাঁধের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, ‘দমকা বাতাসে নদীর পানি ফুলে উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের ঘটনার বৈজ্ঞানিক নাম ‘ব্যাকওয়াটার ইফেক্ট’। এতে টি-বাঁধ ও টি-গ্রোয়েনের কিছু ইটের ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। পানি কমলেই বাঁধ সংস্কার করা হবে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজশাহীর পদ্মার পানি বিপত্সীমার কাছে পৌঁছায়। চলতি সপ্তাহে পানি প্রতিদিন কমছে। আকস্মিক ঢেউয়ে বাঁধ ও নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পদ্মার পাড়ের মানুষেরা আতঙ্কিত বলে জানান।