ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এই বিক্ষোভ সামাল দিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ট্রেন বাতিল এবং ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিন আগে আগাম আবেদন না করা এবং পূর্ববর্তী কর্মসূচিতে নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে এই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সেন্ট্রাল দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং নিয়ম ভাঙলে আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তর ও নতুন দিল্লি জেলাসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে প্রবেশ ঠেকাতে ১০ অক্টোবর ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ শুক্রবার রাত ৯টা থেকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও কাশ্মীরি গেটের মতো ব্যস্ত স্টেশনে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নতুন দিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে স্টেশনে যাওয়ার আগে ট্রেনের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে মোট ২২১টি কোম্পানি এবং অতিরিক্ত ১১০টি কোম্পানি সহ মোট ২৩ হাজার সেন্ট্রাল আর্মেড পুলিশ ফোর্স (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেস রিকগনিশন সিস্টেম এবং বহুপাক্ষিক ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যার মধ্যে সিআরপিএফ, এসএসবি, আইটিবিপি, আরএএফ ও সিআইএসএফ সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাসহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি