যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে শক্তিশালী হারিকেনে পরিণত হয়েছে ইসাইয়াস। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এটি ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার হারিকেনে রূপ নেয়। ঝড়টির প্রভাবে আলাবামা, ফ্লোরিডা ও মিসিসিপির উপকূলীয় এলাকায় প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাস, প্রবল বাতাস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে আলাবামা ও ফ্লোরিডার সীমান্তবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে ইসাইয়াস। এর প্রভাবে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল অঞ্চল, দক্ষিণ আলাবামা ও দক্ষিণ মিসিসিপিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারিকেনটির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৩ কিলোমিটার। ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার হারিকেনকে শক্তিশালী হারিকেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের ঝড় ব্যাপক ও বিধ্বংসী ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগে আঘাত হানার আগে ঝড়টির শক্তি আরও বাড়তে পারে।
শুক্রবার সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। দুপুরের পর থেকে ঝড়ের প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রবল বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা এবং টর্নেডো সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে হারিকেন সেন্টার।
ঝড়টি দ্রুত উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ইসাইয়াস সর্বোচ্চ শক্তিতে না থাকলেও এটি শক্তিশালী হারিকেন হিসেবেই উপকূলে পৌঁছাতে পারে।
হারিকেন ইসাইয়াস বর্তমানে মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে প্রায় ৩২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। ঘণ্টায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার গতিতে উত্তর দিকে এগোচ্ছে ঝড়টি।
স্থলভাগে আঘাত হানার পর ইসাইয়াস দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হারিকেন সেন্টার। শনিবার বিকেলের মধ্যে এটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর আলাবামা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা ধরে উত্তর দিকে স্থলভাগের আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)