আইইএলটিএসের দুনিয়ায় ‘ম্যাজিশিয়ান’ রাশেদ ভাইয়ের গল্প

মাত্র কয়েক বছরের পথচলায় আইইএলটিএস শেখার ক্ষেত্রে তরুণদের মধ্যে পরিচিত একটি নাম হয়ে উঠেছেন রাশেদ হোসাইন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি পরিচিত ‘রাশেদ ভাই’ নামে। তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ‘বাংলায় আইইএলটিএস’—আইইএলটিএস প্রস্তুতি ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা একটি শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম।

রাশেদ হোসাইনের এই পথচলার শুরু প্রায় ছয় বছর আগে। সময়টা ছিল করোনাভাইরাস মহামারির। ঘরবন্দী মানুষের কাছে তখন অনলাইনই হয়ে উঠেছিল শিক্ষা ও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেই সময় অনলাইনভিত্তিক আইইএলটিএস শিক্ষাদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন রাশেদ হোসাইন। নিজের আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন তিনি। সেখান থেকেই আইইএলটিএস প্রস্তুতির প্রক্রিয়াকে সহজ করার ভাবনা আসে তাঁর মাথায়।

রাশেদ হোসাইন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর নিজে আইইএলটিএস দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে মনে হলো, একজন শিক্ষার্থীর জন্য আইইএলটিএসের প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা কঠিন ও বিভ্রান্তিকর। ভালো মানের লার্নিং রিসোর্সের অভাব, অনলাইন ও অফলাইন প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি আমাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।’

এরপর নিজেই ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়ানো শুরু করেন তিনি। ফেসবুকে একটি শিক্ষামূলক কমিউনিটি এবং ইউটিউবে একটি চ্যানেল চালু করেন। শুরুটা ছিল ছোট পরিসরে। তবে সহজ ভাষায় আইইএলটিএস শেখানোর পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধীরে ধীরে সাড়া ফেলতে শুরু করে।

বর্তমানে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার প্রায় সাত লাখ। চ্যানেলটির বিভিন্ন ভিডিওতে রয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। রাশেদ হোসাইনের দাবি, গত ছয় বছরে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ছয় লাখ মানুষকে আইইএলটিএস প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

অনলাইন শিক্ষাদানের পাশাপাশি ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমও বিস্তৃত করেন রাশেদ হোসাইন। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বাংলায় আইইএলটিএস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সেন্টার’ (বিআইআইসি)। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আইইএলটিএসের পাশাপাশি পিটিই ও স্পোকেন ইংলিশের অফলাইন কোচিং কার্যক্রমও শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ঢাকায় ব্রিটিশ কাউন্সিল অনুমোদিত আইইএলটিএস পরীক্ষার ভেন্যুও রয়েছে তাদের।

বিআইআইসির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাশেদ হোসাইন বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থীর আইইএলটিএসের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভর্তি এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া—পুরো জার্নিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এ কারণে আমার প্রতি একটি শক্তিশালী বিশ্বাস তৈরি হয়েছে।’

তাঁর এই কার্যক্রমের স্বীকৃতিও এসেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ২০২৬ সালে ‘বাংলায় আইইএলটিএস’ ব্রিটিশ কাউন্সিলের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ‘বেস্ট নিউকামার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শুধু অনলাইন ও অফলাইন কোচিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি রাশেদ হোসাইন। আইইএলটিএস প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের উপযোগী বইও লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘Banglay IELTS Grammar’ এবং ‘Banglay IELTS Speaking Sample Answer’। বই দুটি প্রকাশের পর রকমারির বেস্ট সেলার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

রাশেদ হোসাইনের দাবি, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর তৈরি বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট ও শিক্ষাসামগ্রীর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আইইএলটিএস প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন।

আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিকে সহজ করার লক্ষ্যেই তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার কারণে অনেকেই তাঁকে ‘ম্যাজিশিয়ান রাশেদ ভাই’ নামে ডাকেন।

রাশেদ হোসাইনের ভাষায়, ‘যে আইইএলটিএস দেয়, সে বিদেশ যায়।’ এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে আইইএলটিএস প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধাপে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে যেতে চান তিনি।